বুধবার, মে ১৩, ২০২৬

দামুড়হুদার কলাবাড়ীতে ফের শাহীন-ফুলির ই’য়া’বা সাম্রাজ্য, আ’ত’ঙ্কে এলাকাবাসী

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কলাবাড়ী খালপাড় এলাকায় চিহ্নিত মাদক কারবারি শাহীন-ফুলি দম্পতিকে ঘিরে আবারও তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগেও সংবাদ প্রকাশ ও প্রশাসনের অভিযানের মুখে আত্মগোপনে থাকা এই দম্পতি ফের প্রকাশ্যে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এলাকাবাসীর দাবি, এখন আর গোপনে নয়—প্রতিদিন বিকাল হলেই তাদের বাড়ির সামনেই বসছে ইয়াবা বিক্রির এক ধরনের ‘ওপেন হাট’। বিকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে মাদকসেবী ও ক্রেতাদের ভিড় দেখা যাচ্ছে, যা পুরো এলাকাকে অশান্ত করে তুলেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১০-১৫ দিন আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে শাহীন-ফুলি দম্পতির মাদক ব্যবসা নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রশাসনের তৎপরতা বাড়ে। পুলিশের নজরদারির কারণে প্রায় দুই সপ্তাহ তাদের কার্যক্রম অনেকটাই বন্ধ ছিল। তবে রহস্যজনকভাবে গত কয়েকদিন ধরে আবারও পুরোদমে শুরু হয়েছে ইয়াবা কারবার।

অভিযোগ রয়েছে, পেশায় ভ্যানচালক শাহীন দীর্ঘদিন ধরে ভ্যানকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে ইয়াবা পরিবহন করে আসছে। আর পুরো সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেন তার স্ত্রী ফুলি খাতুন। তাদের অধীনে কয়েকজন সক্রিয় সদস্য বিভিন্ন গ্রামে ইয়াবা সরবরাহ করছে বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, “আগে তারা লুকিয়ে ব্যবসা করত, এখন প্রকাশ্যেই করছে। বিকাল হলেই মাদকসেবীদের আনাগোনায় পুরো এলাকা অস্থির হয়ে ওঠে। কেউ প্রতিবাদ করলে ভয়ভীতি দেখানো হয়।”

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, এই দম্পতি শুধু মাদক ব্যবসাই নয়, বরং স্থানীয়দের হুমকি দেওয়া, সাংবাদিকদের চ্যালেঞ্জ করা এবং প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর মতো কর্মকাণ্ডেও জড়িত। এর আগে সংবাদ প্রকাশের পর ফুলি খাতুন প্রকাশ্যে দম্ভোক্তি করে বলেছিলেন, “আমার কিছুই করতে পারবে না, টাকা দিয়েই সব ম্যানেজ করা হয়।”

এমন বক্তব্যের পর এলাকাজুড়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—কার ছত্রছায়ায় বারবার ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে এই সিন্ডিকেট? কোন প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়ে তারা এতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে?

স্থানীয় অভিভাবকরা বলছেন, সীমান্তবর্তী এই এলাকায় ইয়াবার বিস্তার ইতোমধ্যেই যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। স্কুল-কলেজপড়ুয়া তরুণদের মধ্যেও এই ভয়াল নেশার প্রভাব বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

এ অবস্থায় চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, শুধু খুচরা কারবারি নয়—এই সিন্ডিকেটের নেপথ্যে থাকা গডফাদারদেরও আইনের আওতায় এনে পুরো নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে হবে।

সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে শাহীন-ফুলি দম্পতির বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর অভিযান চালানোর দাবি এখন সর্বস্তরের মানুষের।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ