
দুর্নীতির ছয় মামলায় পাবনা মানসিক হাসপাতালের সাবেক পরিচালক তন্ময় প্রকাশ বিশ্বাসকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে পাবনা সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন তন্ময় প্রকাশ বিশ্বাস। শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয় পাবনার উপসহকারী পরিচালক মনোয়ার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তন্ময় প্রকাশ বিশ্বাস যশোরের মনিরামপুর উপজেলার কুলটিয়া গ্রামের মৃত বিরাট চন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে। বর্তমানে পাবনা পৌর শহরের দিলালপুর শ্যাম ঠাকুর রোডের একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করেন। তিনি পাবনা মানসিক হাসপাতালের সাবেক পরিচালক।
মামলা সূত্রে জানা যায়, পাবনা মানসিক হাসপাতালের পরিচালক থাকাকালে কেনাকাটা ও প্রশাসনিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অনিয়ম এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুদক পাবনার সাবেক সহকারী পরিচালক (বর্তমানে উপপরিচালক) মো. শহিদুল আলম বাদী হয়ে তন্ময় প্রকাশ বিশ্বাসসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে পৃথক ছয়টি মামলা করেন। ২০২২ সালের ১৩ ও ১৪ জুন মামলাগুলো করা হয়।
মামলায় অন্য অভিযুক্তরা হলেন পাবনার সাবেক জেলা মার্কেটিং অফিসার বর্তমানে দিনাজপুর কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির, পাবনা পৌর শহরের ছাতিয়ানী মহল্লার মৃত আব্দুল আওয়ালের ছেলে ঠিকাদার তিন ভাই এ এইচ এম আরেফিন, এ এইচ এম রেজাউন এবং এ এইচ এম ফয়সাল।
মামলার এজাহারে বলা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পরস্পর যোগসাজশে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ ও অসদাচরণের মাধ্যমে ২০১৭-১৮ এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মানসিক হাসপাতালের জন্য কেনা পথ্যসামগ্রীর মূল্য প্রকৃত বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দেখিয়ে ৮৮ লাখ ৭ হাজার ৭৬৮ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
মামলাগুলোর তদন্ত কর্মকর্তা দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় পাবনার উপসহকারী পরিচালক মনোয়ার হোসেন তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১২ মার্চ বিজ্ঞ আদালতে ছয়টি মামলার পৃথক অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
তন্ময় প্রকাশ আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে দুদকের প্রসিকিউশনপক্ষ এর বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে জামিন আবেদন নাকচ করেন এবং তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে তাকে পাবনা জেলা কারাগারে নেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন পিপি অ্যাডভোকেট মলয় কুমার দাস রায় এবং তন্ময় প্রকাশ বিশ্বাসের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট সাজ্জাদ ইকবাল লিটন ও অ্যাডভোকেট আলী রেজা পারভেজ।

