
এসিএম নিউজ, ঢাকা
দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল মঙ্গলবার তিনি শপথ নিয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার সদস্যরাও শপথ নিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দেড় বছর পর গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা চালু হল দেশে।
জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বিকেলে প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে এবং পরে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভার ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। তারুণ্যের আধিক্যের এই মন্ত্রিসভায় বিএনপি জোটের দুটি শরিক দলের দুই নেতাও রয়েছেন।
১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২১২টি আসনে জয়লাভ করে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট। সংসদে এই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলো।
জাতীয় সংগীত এবং পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় শপথ অনুষ্ঠান। এরপর প্রধানমন্ত্রী পদে তারেক রহমানের নাম ঘোষণা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। এরপর নিয়ম অনুযায়ী নতুন প্রধানমন্ত্রীকে সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পালনের এবং গোপনীয়তার শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি। পরে শপথের নথিতে সই করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
নতুন প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিনন্দন জানানোর পর মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হয় এবং শপথ গ্রহণের জন্য আহ্বান জানানো হয়। এরপর ২৫ জন মন্ত্রীকে পর্যায়ক্রমে শপথ এবং গোপনীয়তার শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি। সবশেষে ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করে তাঁদের শপথ গ্রহণের আহ্বান জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের নথিতে সই করার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়।
এর আগে সকালে জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন নবনির্বাচিত এমপিরা। প্রথমে বিএনপি জোটের এবং পরে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের এমপিরা শপথ নেন। সবশেষে শপথ নেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্যরা। এই শপথ পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। জামায়াত জোটের এমপিরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও বিএনপি জোটের কেউ এবং স্বতন্ত্র সদস্যরা এই শপথ নেননি।
শপথ অনুষ্ঠানে স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে আসেন তারেক রহমান। শপথ অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টাদের মধ্যে আসিফ নজরুল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, চৌধুরী রফিকুল আবরার, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, সিইসি, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, তিন বাহিনীর প্রধানেরা, কূটনৈতিক কোরের সদস্য, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এবং উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল, শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য ও গণমাধ্যমবিষয়ক মন্ত্রী নালিন্দা জয়াসিতা, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মাসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে সকাল থেকে জাতীয় সংসদের আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ জড়ো হন। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে শপথ অনুষ্ঠান দেখার জন্য রাখা হয় বেশ কয়েকটি ডিজিটাল ডিসপ্লে ও সাউন্ড বক্স। শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে জাতীয় সংসদ ভবন এবং আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সার্বক্ষণিক কঠোর নজরদারি দেখা গেছে।
কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব?
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।
এ ছাড়া সালাউদ্দিন আহমদ-স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী- অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ- মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু- বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন- মহিলা ও শিশু, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, ড. খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট)- পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আব্দুল আওয়াল মিন্টু- পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, মিজানুর রহমান মিনু- ভূমি মন্ত্রণালয়, নিতাই রায় চৌধুরী- সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান- আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।
এ ছাড়া কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ- ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়, আরিফুল হক চৌধুরী- শ্রম ও কর্মসংস্থান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, খন্দকার আবদুল মুক্তাদির- বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, জহির উদ্দিন স্বপন- তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি- পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, এহসানুল হক মিলন- শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, আমিন উর রশিদ (টেকনোক্র্যাট), কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, খাদ্য মন্ত্রণালয়, আফরোজা খানম- বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, আসাদুল হাবীব দুলু- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, জাকারিয়া তাহের- গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, দীপেন দেওয়ান- পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়, সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল- স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, ফকির মাহবুব আনাম- ডাক ও টেলিযোগাযোগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং শেখ রবিউল আলম, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।
প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত- বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত- বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়, শরীফুল আলম- বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, শামা ওবায়েদ- পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু- কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, খাদ্য মন্ত্রণালয়, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল- ভূমি মন্ত্রণালয়, ফারহাদ হোসেন আজাদ- পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, আমিনুল হক (টেকনোক্র্যাট)- যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।

