
চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ক্লেরিক্যাল সুপারভাইজার ও শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের (সিবিএ) সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত কোটি কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদের প্রমাণ মিললে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। সম্প্রতি মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করেছে দুদক।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, নাছির উদ্দিনের নামে আনোয়ারায় ২৮ লাখ টাকার জমি, চৌমুহনী বাজারে ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত শশী কমিউনিটি সেন্টার, ২৪ লাখ টাকার ব্যক্তিগত গাড়ি, ৪৫ লাখ টাকা ব্যাংক জমা, ৪০ লাখ টাকার শেয়ার ব্যবসা ও ইনস্যুরেন্সসহ বিপুল সম্পদ রয়েছে। এছাড়া মেয়ের মেডিকেল পড়াশোনার খরচ বাবদ গত তিন বছরে প্রায় ২৩ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন তিনি।
সম্পদের চিত্র
-
জমি: আনোয়ারায় প্রায় ২৮ লাখ টাকার জমি
-
কমিউনিটি সেন্টার: চৌমুহনী বাজারে ১ কোটি ৪২ লাখ টাকার ‘শশী কমিউনিটি সেন্টার’
-
ব্যক্তিগত গাড়ি: ২৪ লাখ টাকা দামের গাড়ি
-
ব্যাংক জমা: ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা
-
শেয়ার ব্যবসা ও ইনস্যুরেন্স: প্রায় ৪০ লাখ টাকা
-
শিক্ষা ব্যয়: মেয়ের মেডিকেল পড়াশোনার জন্য গত তিন বছরে প্রায় ২৩ লাখ টাকা খরচ
১৯৮৬ সালে পদ্মা অয়েলে পিয়ন হিসেবে চাকরি শুরু করেছিলেন নাছির উদ্দিন। পরবর্তীতে দ্রুত পদোন্নতি পেয়ে ২০১৪ সালে সুপারভাইজার হন। বর্তমানে তিনি আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
২০১৯ সালে দুদকে জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে তিনি ১ কোটি ৩০ লাখ টাকার সম্পদ দেখালেও, দুদকের তদন্তে প্রায় তিন কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। ২০২৩ সালে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।
অভিযোগ রয়েছে, পদ্মা অয়েলের কর্মচারীদের বদলি ও পদোন্নতি নিয়ে ঘুষ-বাণিজ্যের সঙ্গেও জড়িত তিনি। এ বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নাছির উদ্দিন কোনো মন্তব্য করেননি।
এদিকে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানিয়েছেন, চার্জশিটের বিষয়টি তাঁরা শুনেছেন, তবে এখনো অফিসিয়ালি কোনো চিঠি পাননি। চিঠি পাওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
@বার্তা বাজার

