Sunday, August 30, 2026

এলজিইডির প্রকল্পে আউটসোর্সিং নিয়োগে ৪–৫ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে স্বচ্ছতা

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) জলবায়ু সহনশীল ও জীবিকা উন্নয়ন প্রকল্পের (সিআরএএলইপি) আওতায় আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগকে কেন্দ্র করে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে পদ অনুযায়ী ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে প্রকল্পের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও জনবল সরবরাহের দায়িত্ব পেতে আগ্রহী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনের মধ্যে যোগসাজশের অভিযোগও রয়েছে।

এসব অভিযোগের কারণে প্রকল্পের জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং প্রকল্প পরিচালক (পিডি) সনিয়া নওরিনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, প্রকল্প পরিচালনায় তিনি অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে এককভাবে প্রভাব বিস্তার করছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।

টেন্ডার-সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন এলজিইডির প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয় থেকে পিএমইউ ও পিআইইউ ইউনিটের জন্য আউটসোর্সিং কর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য CRE_NCS_1001 প্যাকেজের আওতায় টেন্ডার আহ্বান করা হয়। এর টেন্ডার/প্রস্তাব আইডি 1308828 এবং প্রকল্প কোড 224421900।

নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জনবল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করতে উন্মুক্ত টেন্ডারিং পদ্ধতি (OTM) অনুসরণ করা হবে। টেন্ডার সিকিউরিটি নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ লাখ টাকা এবং টেন্ডার ডকুমেন্টের মূল্য ৪ হাজার টাকা। মূল্যায়নে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য ৭০ পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত চুক্তির মেয়াদও দীর্ঘ। নথি অনুযায়ী, নির্বাচিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় চার বছর ধরে প্রকল্পের প্রয়োজনীয় জনবল সরবরাহ করতে হবে। সম্ভাব্য সেবা শুরুর তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এবং শেষ হওয়ার কথা ২৯ আগস্ট ২০৩০। দীর্ঘ সময়ের এই সরকারি কাজ পাওয়াকে কেন্দ্র করে বিপুল অর্থের লেনদেনের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে অভিযোগকারীরা আশঙ্কা করছেন।

তাদের অভিযোগ, টেন্ডারের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া চললেও চাকরিপ্রার্থীদের একটি অংশের কাছ থেকে আগেই অর্থ দাবি করা হচ্ছে। পদভেদে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থ চাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। প্রার্থী বাছাই, তালিকা তৈরি এবং নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রকল্পের ভেতরের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীও প্রভাব বিস্তার করছেন বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

এতে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, যদি টেন্ডার সম্পন্ন হওয়ার আগেই নির্দিষ্ট প্রার্থী বা লোকবল বাছাই করে রাখার কোনো ব্যবস্থা থাকে, তাহলে উন্মুক্ত টেন্ডার ও নির্ধারিত মূল্যায়ন পদ্ধতির কার্যকারিতা কতটা থাকবে?

প্রকল্পের অভ্যন্তরীণ প্রশাসন নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে। প্রকল্প পরিচালক সনিয়া নওরিনের কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জনবল নিয়োগে কী ভূমিকা রাখছেন, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কারা যোগাযোগ করছেন এবং চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে অর্থ দাবির অভিযোগ পাওয়ার পর প্রকল্প কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিয়েছে কি না—এসব বিষয় এখন আলোচনায় এসেছে।

অভিযোগকারীরা বলছেন, সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত প্রায় চার বছর মেয়াদি একটি প্রকল্পে জনবল সরবরাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে যদি প্রার্থীপ্রতি লাখ লাখ টাকা লেনদেনের চেষ্টা হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি কেবল নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর সঙ্গে সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা এবং অর্থ ব্যবহারের জবাবদিহিতার প্রশ্নও জড়িয়ে পড়বে।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ