Saturday, August 29, 2026

লীরা গ্রুপ ও সম্রাট প্যাকেজিংয়ের মালিকের বিরুদ্ধে কর-ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ দুদকে

লীরা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (লীরা পাইপ) ও সম্রাট প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. আলমগীর ইকবালের বিরুদ্ধে সরকারকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে। আয়কর ও ভ্যাট ফাঁকি, অডিট প্রতিবেদনে অসত্য বা অসম্পূর্ণ তথ্য প্রদান এবং ব্যক্তিগত আয়-সম্পদ গোপনের অভিযোগে সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের এক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অভিযোগটি দাখিল করেছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, লীরা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে এম. আলমগীর ইকবাল দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত আয়কর ও ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে আসছেন।

অভিযোগকারীর দাবি, আয়কর ও ভ্যাট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিষ্ঠানগুলোর অডিটসংক্রান্ত নথিতে প্রয়োজনীয় তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি। একই সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভুল বা অসত্য তথ্য দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হলে প্রকৃত আর্থিক তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী।

টিডিএস নিয়েও প্রশ্ন

সম্রাট প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজের বিরুদ্ধেও করসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠান দুটিতে হাজার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত থাকলেও নিয়মিতভাবে উৎসে কর বা টিডিএস (TDS) জমা দেওয়া হয় না।

প্রতিষ্ঠানগুলোর অডিট রিপোর্ট, কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং সংশ্লিষ্ট টিডিএস নথি পর্যালোচনা করলে প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাবে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্যক্তিগত আয় ও সম্পদ গোপনের অভিযোগ

এম. আলমগীর ইকবালের ব্যক্তিগত আয় ও সম্পদ নিয়েও অভিযোগে বেশ কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

অভিযোগকারীর দাবি, রাজধানীর গুলশানে তাঁর নিজস্ব বাড়ি রয়েছে এবং সেখান থেকে প্রতি মাসে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভাড়া আয় করেন তিনি। তবে ওই ভাড়া আয় তাঁর ব্যক্তিগত আয়কর নথিতে যথাযথভাবে দেখানো হয় না বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া তিনি দুটি দামি জিপ গাড়ি ব্যবহার করেন, যার সম্মিলিত আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব সম্পদ ও ব্যয়ের সঙ্গে তাঁর ঘোষিত বৈধ আয়ের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।

ক্লাবের পরিচয় ব্যবহার করে মদ আমদানির অভিযোগ

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বিগত সরকারের সময়ে ক্লাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি পরিচয় ব্যবহার করে এম. আলমগীর ইকবাল বিভিন্ন সুবিধা নিয়েছেন। ক্লাবের নামে কথিত ভুয়া তথ্য ব্যবহার করে মদ আমদানি এবং এ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

এ ছাড়া সাবেক সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল এবং তাঁদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে তিনি সুবিধা নিয়েছেন বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

রাজস্ব ফাঁকি তদন্তের আবেদন

দুদকে দেওয়া অভিযোগে লীরা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ ও সম্রাট প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজের আয়কর, ভ্যাট, টিডিএস, অডিট রিপোর্ট এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক নথি খতিয়ে দেখার আবেদন জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে এম. আলমগীর ইকবালের ব্যক্তিগত আয়কর নথি, ঘোষিত সম্পদ, ব্যাংক লেনদেন, বাড়ি থেকে প্রাপ্ত ভাড়া আয় এবং ব্যবহৃত যানবাহনের মালিকানা ও মূল্য যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগকারী মনে করেন, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ নিরূপণ করে রাষ্ট্রের পাওনা আদায় এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

তবে দুদকে দাখিল করা অভিযোগে উত্থাপিত এসব বিষয় এখনো তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়নি।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ