রবিবার, জুলাই ৫, ২০২৬

দুদকের চার্জশিটভুক্ত আসামিরাও বহাল, ডিজি আব্দুর রহিমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) মহাপরিচালকের (রুটিন দায়িত্ব) দায়িত্বে থাকা মো. আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশাসনিক প্রশ্রয়, বিধিবহির্ভূত পদোন্নতি ও পদায়ন, বদলি বাণিজ্য এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চার্জশিটভুক্ত কয়েকজন কর্মকর্তা এখনো বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন, যা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক এস এম আনিসুজ্জামানের দায়ের করা একটি মামলায় ডিএইর সাবেক সহকারী পরিচালক (অর্থ) সৈয়দ শরিফুল ইসলামসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০১৬-১৭ ও ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ভুয়া বিল-ভাউচার, কম্পিউটার সামগ্রী ক্রয়ের জাল কাগজপত্র এবং স্টক রেজিস্টারে ভুয়া এন্ট্রির মাধ্যমে প্রায় ৫৫ লাখ ৯১ হাজার টাকাসহ বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ওই মামলার প্রধান আসামি বর্তমানে কারাভোগ করলেও অপর দুই আসামি—নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলা কৃষি অফিসে কর্মরত উচ্চমান সহকারী মো. অলিউল্লাহ প্রধান এবং প্রশাসন ও অর্থ উইংয়ের ক্যাশিয়ার মো. জাহিদ হাসান—এখনও চাকরিতে বহাল রয়েছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রশাসনিক প্রভাবের কারণেই তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সূত্রের অভিযোগ, জাহিদ হাসানকে চলতি বছরের মে মাসে ময়মনসিংহে বদলির আদেশ দেওয়া হলেও ঠিকাদারি বিল পরিশোধ-সংক্রান্ত কাজের অজুহাতে এখনো সদর দপ্তরে রাখা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারি বিলের কমিশন বাণিজ্যের সুবিধার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর আব্দুর রহিমের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে, যারা বদলি, পদায়ন ও পদোন্নতিতে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রে প্রচলিত বিধিমালা উপেক্ষা করে প্রশাসনিক ক্ষমতার বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত কয়েকজন নন-ক্যাডার কর্মকর্তাকে ষষ্ঠ গ্রেডে পদোন্নতি দিতে নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, বিধিবহির্ভূত পদবী পরিবর্তন এবং প্রশাসনিক জটিলতা থাকা সত্ত্বেও পদোন্নতি কার্যকর করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

সূত্র আরও দাবি করেছে, কৃষি মন্ত্রণালয়ের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল প্রশাসনিক ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে ভিন্ন পদ ও কর্মস্থল উল্লেখ করে পদায়নের আদেশ জারি করা হয়। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এসব সিদ্ধান্তের পেছনে মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেন হয়েছে।

এ ছাড়া অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অতীতে আর্থিক অনিয়ম ও প্রশাসনিক বিতর্কে জড়িত কয়েকজন কর্মকর্তাকে পুনরায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনার চেষ্টা চলছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আব্দুর রহিম অতীতে বিভিন্ন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালে আর্থিক অনিয়ম, সরকারি সম্পদের অপব্যবহার, প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে সমালোচিত ছিলেন। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব অনিয়মের মাধ্যমে তিনি ও তার পরিবারের নামে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি।

অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও কর্মপরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ