
বিশেষ প্রতিনিধি মুরাদ হোসেন: সরকারি চাকরির আড়ালে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আলোচনায় এসেছেন নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মাহবুবুর রহমান। তার এবং তার স্ত্রী খালেদা ইয়াসমিনের নামে চট্টগ্রাম, আনোয়ারা, বাঁশখালী ও বান্দরবান জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিপুল পরিমাণ জমি, আবাসিক সম্পত্তি ও স্থাবর সম্পদের তথ্য সামনে এসেছে। এসব সম্পদের পরিমাণ, অবস্থান এবং সম্ভাব্য বাজারমূল্য নিয়ে স্থানীয় মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ চাকরি জীবনে বিভিন্ন প্রকল্প ও উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার সুযোগে তিনি প্রভাব বিস্তার করে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ব্যক্তিগত পরিচিতি
নাম: মোঃ মাহবুবুর রহমান
পদবি: নির্বাহী প্রকৌশলী
স্ত্রীর পরিচয়
নাম: খালেদা ইয়াসমিন
পিতা: নুরুল ইসলাম
মাতা: মনোআরা বেগম
বর্তমান ঠিকানা
ফ্ল্যাট- বি/৯, ইকুইটি অর্ণব, ১১১১ জাকির হোসেন রোড বাইলেন, শান্তিধারা আবাসিক এলাকা, পূর্ব নাছিরাবাদ, খুলশী, চট্টগ্রাম।
স্থায়ী ঠিকানা
মাহফুজ সাহেবের বাড়ি, ৪৯৮ কাশেমপাড়া, বান্দরবান সদর, বান্দরবান।
সম্পদের বিস্তারিত বিবরণ
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মোঃ মাহবুবুর রহমানের নামে চট্টগ্রাম মহানগর ও আশপাশের এলাকায় একাধিক মূল্যবান জমি ও আবাসিক সম্পত্তির তথ্য পাওয়া গেছে।
১। চান্দগাঁও (পাচলাইশ)
মৌজা: চান্দগাঁও (পাচলাইশ)
জোত নং: ১৫৮০০
পরিমাণ: ২০ শতক
২। বাকলিয়া বন্দর
সার্কেল: চট্টগ্রাম সদর
মৌজা: বাকলিয়া বন্দর
জোত নং: ১৬৩৮
পরিমাণ: ৩৮ শতক
৩। বাকলিয়া বন্দর (আবাসিক)
সার্কেল: চট্টগ্রাম সদর
মৌজা: বাকলিয়া বন্দর
জোত নং: ২৪২৯
পরিমাণ: ৫.১২ শতক
শ্রেণি: আবাসিক
৪। বাকলিয়া বন্দর
সার্কেল: চট্টগ্রাম সদর
মৌজা: বাকলিয়া বন্দর
জোত নং: ১৬৩৮/১
পরিমাণ: প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জমি
৫। চান্দগাঁও (পাচলাইশ)
মৌজা: চান্দগাঁও (পাচলাইশ)
জোত নং: ১৫৮৪৩
পরিমাণ: ২০ শতক
৬। পূর্ব নাছিরাবাদ
এলাকা: কাটলি
মৌজা: পূর্ব নাছিরাবাদ
জোত নং: ২৭৬৪
বিবরণ: বাড়ি/স্থাপনা
পরিমাণ: ০.৫৮
৭। দক্ষিণ জলদি
উপজেলা: বাঁশখালী
মৌজা: দক্ষিণ জলদি
জোত নং: ১৭৩৬
পরিমাণ: ৬৫ শতক
৮। শোলকাটা
উপজেলা: আনোয়ারা
মৌজা: শোলকাটা
জোত নং: ২৮২৫
পরিমাণ: ৮২.৭২ শতক
৯। বাকলিয়া বন্দর (আবাসিক)
সার্কেল: চট্টগ্রাম সদর
মৌজা: বাকলিয়া বন্দর
জোত নং: ৭০৩৬
পরিমাণ: ৫.১২ শতক
শ্রেণি: আবাসিক
১০। শোলকাটা
উপজেলা: আনোয়ারা
মৌজা: শোলকাটা
জোত নং: ২৯৮৮
পরিমাণ: ১৯.৯৯ শতক
স্ত্রীর নামে সম্পদ
১১। চান্দগাঁও (পাচলাইশ)
মালিক: খালেদা ইয়াসমিন
মৌজা: চান্দগাঁও (পাচলাইশ)
জোত নং: ১৫৭৯৯
পরিমাণ: ১৬ শতক
সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, চট্টগ্রাম মহানগরের দ্রুত বর্ধনশীল এলাকাগুলোর মধ্যে চান্দগাঁও, বাকলিয়া, খুলশী, কাটলি এবং আনোয়ারা অন্যতম। এসব এলাকায় জমির মূল্য গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এসব স্থানে একাধিক জমি ও আবাসিক সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, একজন সরকারি কর্মকর্তার নিয়মিত বেতন ও পরিচিত আয়ের উৎসের সঙ্গে এই পরিমাণ সম্পদের সামঞ্জস্য খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশেষ করে সম্পদগুলো কখন ক্রয় করা হয়েছে, কীভাবে অর্থের জোগান দেওয়া হয়েছে, ব্যাংক লেনদেনের উৎস কী ছিল এবং কর নথিতে সেসব সম্পদের উল্লেখ রয়েছে কি না—এসব বিষয় তদন্তের দাবি উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে সম্পদ বিবরণী, আয়কর রিটার্ন এবং ব্যাংক হিসাবের তথ্য পর্যালোচনা করলে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে। তাই বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ অনুসন্ধান ও প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করা জরুরি।
তদন্তের দাবি
স্থানীয় সচেতন নাগরিক, সামাজিক সংগঠন এবং দুর্নীতিবিরোধী বিভিন্ন মহল মনে করছে, বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সেটিও জনসম্মুখে তুলে ধরার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত তথ্য ও অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মোঃ মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি এ বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
© DailyAmaderMatribhumi

