
প্রায় এক দশক আগে অবসরে যাওয়া এবং দীর্ঘদিন নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রমের বাইরে থাকা একজন কর্মকর্তাকে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ায় প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকার ২০২৬ সালের ১ মার্চ মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদকে এক বছরের জন্য ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে নিয়োগ দেয়।
১৯৫৭ সালের ৩০ জুন জন্মগ্রহণকারী এই কর্মকর্তা নিয়োগের সময় প্রায় ৬৯ বছর বয়সী ছিলেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালের পর তিনি আর নিয়মিত প্রশাসনিক কোনো দায়িত্বে ছিলেন না। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে যুগ্মসচিব হিসেবে অবসরে যান।
প্রশ্ন উঠেছে, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ প্রশাসনিক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোন যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। কারণ তার কর্মজীবনের অধিকাংশ সময় কেটেছে মাঠ প্রশাসন, স্বরাষ্ট্র, কৃষি, প্রতিরক্ষা এবং ভূমি ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট খাতে। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়, হজ ব্যবস্থাপনা, ওয়াকফ প্রশাসন বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সঙ্গে তার প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায় না।
সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বৈধ হলেও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষ দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে সাধারণত গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হয়। অথচ ধর্ম মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনের কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই তাকে সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ কারণে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে নিয়োগের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রশাসনে বর্তমানে কর্মরত অসংখ্য কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন। তাদের মধ্য থেকে কাউকে দায়িত্ব না দিয়ে বহু বছর আগে অবসর নেওয়া একজন কর্মকর্তাকে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
আরও একটি বিষয় আলোচনায় এসেছে যে, ২০০৯ সালের পর দীর্ঘ সময় তিনি প্রশাসনের মূল ধারার বাইরে ছিলেন। ফলে বর্তমান প্রশাসনিক বাস্তবতা, নীতিগত পরিবর্তন এবং প্রযুক্তিনির্ভর সরকারি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে তার সাম্প্রতিক সম্পৃক্ততা কতটুকু—সেই প্রশ্নও উত্থাপিত হয়েছে।
সমালোচকদের মতে, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকারের উচিত নিয়োগের কারণ এবং প্রয়োজনীয়তা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা। অন্যথায় এমন নিয়োগ প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও মেধাভিত্তিক পদোন্নতি ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
যদিও মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদের দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন, তবুও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মতো বিশেষায়িত খাতে তার অভিজ্ঞতার অভাব এবং দীর্ঘদিন প্রশাসনের বাইরে থাকার বিষয়টি নিয়োগ-পরবর্তী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
ফলে ধর্মসচিব হিসেবে তার নিয়োগ এখন শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং সরকারি উচ্চপদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের নীতি ও মানদণ্ড নিয়ে নতুন করে বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে।
© DailyAmaderMatribhumi

