
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) শুল্ক ও আবগারি বিভাগের সাবেক সদস্য এবং শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক শহিদুল ইসলাম-এর বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচার এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবী হয়েও তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা দেশে-বিদেশে শত শত কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মালিক হয়েছেন, যার উৎস নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, শুল্ক ও কর প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকার সময় বিভিন্ন আমদানিকারক গোষ্ঠী ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হন। অভিযোগ রয়েছে, এসব সম্পদের একটি বড় অংশ তার নিজের নামে না রেখে স্ত্রী, সন্তান এবং নিকট আত্মীয়দের নামে গড়ে তোলা হয়েছে।
সম্প্রতি তিনি স্ত্রী ফাহমিদা রাব্বি ও এক সন্তানকে নিয়ে মালয়েশিয়ায় গেছেন বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সম্ভাব্য আইনি জটিলতা এড়ানোর অংশ হিসেবে তিনি দেশ ছেড়েছেন। তবে এ বিষয়ে তার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বৈধ আয়ের সঙ্গে সম্পদের অসামঞ্জস্যের অভিযোগ
কাস্টমস ক্যাডারের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, একজন সরকারি কর্মকর্তার চাকরি জীবনের বেতন-ভাতা, বিদেশ সফর, প্রশিক্ষণ ও অবসর-সুবিধা মিলিয়ে সীমিত পরিমাণ সম্পদ অর্জনের সুযোগ থাকলেও শহিদুল ইসলাম ও তার পরিবারের নামে থাকা সম্পদের পরিমাণ সেই আয়ের তুলনায় অনেক বেশি বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদের পরিমাণ বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং বিষয়টি অনুসন্ধানের দাবি রাখে।
বিদেশে সম্পদ ও অর্থ পাচারের অভিযোগ
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, শহিদুল ইসলামের পরিবারের সদস্যদের কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ ও সম্পদ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, হুন্ডিসহ বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচার করে এসব সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে।
এছাড়া তার দুই ছেলে বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন এবং তাদের নামে আবাসিক সম্পত্তি ও ব্যবসায়িক বিনিয়োগ রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।
দেশে দৃশ্যমান সম্পদের বিস্তার
অভিযোগ অনুযায়ী, রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার জি ব্লকে ‘শেল কবিতা’ নামে একটি বহুতল ভবনের মালিকানা শহিদুল ইসলাম ও তার পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এছাড়া বাংলামোটর, শাহবাগ ও নিউমার্কেট এলাকায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক সম্পত্তি থাকার অভিযোগও রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আরও দাবি করেছে, তার স্ত্রী ফাহমিদা রাব্বির নামে শেয়ারবাজারে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ এবং বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ জমা রয়েছে। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিপুল পরিমাণ মূলধন বিনিয়োগের অভিযোগও উঠেছে।
আত্মীয়দের সম্পৃক্ততার অভিযোগ
অভিযোগে বলা হয়েছে, ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে তিনি তার ভাইদের ব্যবসায়িক সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন। বিশেষ করে চট্টগ্রামভিত্তিক সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য সরকারি নথি বা আদালতের পর্যবেক্ষণ পাওয়া যায়নি।
দুদকের বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, “সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি অনুসন্ধান করে দেখা হবে।”

