
সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. মিল্লাত হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানি, ঘুষ বাণিজ্য, রাজস্ব ফাঁকি এবং জমি রেজিস্ট্রেশনে বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অফিসটিতে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও অনিয়মের চর্চা চলছে।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নির্ধারিত ফি পরিশোধ করেও অনেক সেবাগ্রহীতা কাঙ্ক্ষিত সেবা পান না। দলিলের ধরন ও মূল্যভেদে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের জন্য অফিসের কিছু কর্মচারী, নকলনবিশ, মোহরার এবং দালালচক্রের সমন্বয়ে একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের দাবি, অতিরিক্ত অর্থ প্রদানকারী ফাইল দ্রুত নিষ্পত্তি হলেও অন্যদের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের ত্রুটি দেখিয়ে প্রক্রিয়া বিলম্বিত করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে কম মূল্যে দলিল সম্পাদনের মাধ্যমে সরকারকে রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এ ধরনের অনিয়মের ফলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি কিছু অসাধু ব্যক্তির আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সরকারি খাসজমি ও বন বিভাগের জমি রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে।
অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন মো. মিল্লাত হোসেন। কর্মজীবনের বিভিন্ন সময়ে তিনি দেশের বিভিন্ন উপজেলায় দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকলেও গোলাপগঞ্জ কার্যালয়ে এ ব্যবস্থা কার্যকর না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অফিসের কার্যক্রমে অধিকতর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দেশের বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। এ প্রেক্ষাপটে গোলাপগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোও যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তবে মো. মিল্লাত হোসেনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

