
সাতক্ষীরা পৌর এলাকায় নকশা অনুমোদন ও লিখিত অনুমতি ছাড়াই বহুতল ভবন এবং বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পৌর কর্তৃপক্ষের তদারকির ঘাটতি এবং কিছু অসাধু ব্যক্তির প্রভাবের কারণে শহরের বিভিন্ন স্থানে নিয়মবহির্ভূতভাবে নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে, যা জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শহরের আমতলা এলাকায় আব্দুর রহমান কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. আক্তারুজ্জামান একটি মার্কেট নির্মাণ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সুলতানপুর বড় বাজারে ‘মসলা ভাণ্ডার’-এর মালিক মো. আবুল কাশেমের দুটি মার্কেটের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। এর মধ্যে একটি ভবনের কলাম ও ছাদ ঢালাই সম্পন্ন হয়েছে এবং অন্যটির ভিত্তি ও কলাম নির্মাণের কাজ চলছে।
এছাড়া পলাশপোল এলাকায় সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসির সাতক্ষীরা শাখার কর্মকর্তা মো. সুমন, সুলতানপুর পিএন হাইস্কুল সংলগ্ন এলাকায় ফারুক হোসেন, সরকারি গুদাম সংলগ্ন এলাকায় জোহা, মুনজিতপুরে ফরহাদ, রাজার বাগানে রেজাউল মাস্টার ও শিক্ষিকা রিতা, টাউন বাজারে হারুন, কাটিয়া এলাকায় লিপুসহ আরও বেশ কয়েকজন ব্যক্তি অনুমোদন ছাড়া বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব নির্মাণকাজে প্রয়োজনীয় নকশা অনুমোদন ও লিখিত অনুমতি ছাড়াই পিলার, বিম ও ছাদ ঢালাই করা হচ্ছে। ফলে ভবনগুলোর কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) এবং স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী পৌর এলাকায় কোনো স্থাপনা নির্মাণের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নকশা অনুমোদন ও লিখিত অনুমতি গ্রহণ বাধ্যতামূলক। তবে অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে এসব বিধান অনুসরণ করা হচ্ছে না।
অভিযোগের বিষয়ে মো. আবুল কাশেম বলেন, তারা নকশা অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছেন এবং মৌখিকভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি পেয়েছেন। অন্যদিকে মো. সুমন জানান, তিনি এখনো লিখিত অনুমতি পাননি, তবে অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছেন।
এদিকে স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, সাতক্ষীরা পৌরসভার কিছু প্রকৌশল কর্মকর্তা নকশা অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে মৌখিক অনুমতি দিয়ে থাকেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোহাব্বাত আলী।
উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাগর দেবনাথের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সাতক্ষীরা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এম.এম. নুর আহম্মদ বলেন, “অননুমোদিত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।” নির্মাণকাজে অনিয়মের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করেন।
অন্যদিকে সাতক্ষীরা পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলীর বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে অননুমোদিত নির্মাণকাজ বন্ধ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, নির্মাণ বিধিমালা উপেক্ষা করে ভবন নির্মাণের প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে জননিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নগর পরিকল্পনা ও নির্মাণ বিধিমালা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে নিরাপদ ও টেকসই নগরায়ণ নিশ্চিত করা জরুরি।

