শনিবার, জুন ৬, ২০২৬

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মচারী জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে অ’বৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) অফিস সহায়ক মো. জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন, আত্মীয়দের নিয়োগে প্রভাব বিস্তার এবং ঠিকাদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রায় ১৫ বছর আগে নিম্নপদে সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়া জসিম উদ্দিন বর্তমানে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মালিক হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্র জানায়, প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে কর্মরত থাকার কারণে জসিম উদ্দিন নিজেকে কখনো ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ), কখনো ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) পরিচয় দিয়ে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে সাক্ষাৎ বা বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে তার প্রভাব রয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

তবে তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে অভিযোগকারীরা মূলত আমার সহকর্মী ও প্রতিপক্ষ। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রধান প্রকৌশলীর আস্থা অর্জন করায় কিছু ব্যক্তি আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।”

বুধবার সকালে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে জসিম উদ্দিন দাবি করেন, অভিযোগকারীদের পরিচয় সম্পর্কে তিনি প্রধান প্রকৌশলীকে অবহিত করেছেন এবং তাদের বিষয়ে তদন্ত শুরু হতে পারে। তবে এ বিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. তারেক আনোয়ার জাহেদী ভিন্ন বক্তব্য দেন।

প্রধান প্রকৌশলী বলেন, “জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে কোনো লিখিত অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। কিছু অভিযোগের কথা শুনেছি মাত্র। তার দাবি অনুযায়ী অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিকেলের যে সভার কথা বলা হয়েছে, সেটি একটি নিয়মিত অভ্যন্তরীণ সভা। সেখানে এ ধরনের কোনো বিষয় আলোচ্যসূচিতে নেই।”

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, রাজধানীর রামপুরা ও আদাবর এলাকায় জসিম উদ্দিনের একাধিক বাড়ি রয়েছে। পাশাপাশি খুলনার রূপসা উপজেলাতেও তার একটি বাড়ির উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব সম্পদের উৎস তদন্ত করা প্রয়োজন।

এছাড়া জসিম উদ্দিনের স্ত্রীর নামে ‘মেসার্স সাঈদ এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ঠিকাদারি লাইসেন্স রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন কাজ বাগিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এ অভিযোগও অস্বীকার করেছেন জসিম উদ্দিন।

এ বিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “কোনো ব্যক্তির দুর্নীতির দায় প্রতিষ্ঠান নেবে না। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবন নির্মাণ ও অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। ফলে সংস্থাটির বিভিন্ন প্রকল্প ও কার্যক্রমে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ ব্যয় হয়ে থাকে।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও যাচাই-বাছাইয়ের পরই প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ