
রাষ্ট্রায়ত্ত পরিবহন সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)-এর উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) গোলাম ফারুকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানটির একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বিভিন্ন তদন্ত প্রতিবেদন, বিভাগীয় মামলার নথি এবং বিআরটিসির অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে অভিযোগ করা হয়, গোলাম ফারুকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে মোট ৪ কোটিরও বেশি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৯৯ সালের জুন মাসে বিআরটিসিতে ইন্সট্রাক্টর পদে যোগ দেন গোলাম ফারুক। বর্তমানে তিনি সংস্থাটির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সংশ্লিষ্ট নথিপত্র অনুযায়ী, বগুড়া ডিপোর ইউনিট প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিআরটিসির তহবিলে ২ কোটি ৩৩ লাখ ১১ হাজার ৭৫০ টাকা জমা না দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তদন্ত পরিচালিত হয়। এছাড়া বিভিন্ন চালক, কন্ডাক্টর ও ব্যক্তির নামে রাজস্ব বকেয়া দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না হওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন ওঠে।
একটি তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, নিজস্ব চালকদের পরিবর্তে বহিরাগত চালকদের দিয়ে বাস পরিচালনা করিয়ে অর্জিত রাজস্বের একটি অংশ তহবিলে জমা দেওয়া হয়নি। এতে প্রায় ১ কোটি ১২ লাখ ৬২ হাজার ৬০০ টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মোহাম্মদপুর বাস ডিপোতে কর্মরত অবস্থায় বেতন, রক্ষণাবেক্ষণ ও জ্বালানি খাতে অনিয়মের কারণে বিআরটিসির ২৮ লাখ ৩৫ হাজার ৬০০ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে বিভাগীয় মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
বিআরটিসির একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, বাস রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্রাংশ ক্রয়, কাউন্টার ও বাস লিজ ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক ফাইল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, এসব বিষয়ে একাধিকবার তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সুপারিশ করা হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
প্রতিষ্ঠানটির কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভিযোগ, বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লার সময়েও অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে এ বিষয়ে চেয়ারম্যানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
একজন পরিবহন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ সম্পন্ন করতে গিয়ে তাকে দীর্ঘসূত্রতার মুখে পড়তে হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি।
এদিকে বিআরটিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, একাধিক বিভাগীয় মামলা ও তদন্ত থাকা সত্ত্বেও কীভাবে গোলাম ফারুক পদোন্নতি পেয়েছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল রয়েছেন।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিআরটিসিতে সুশাসন নিশ্চিত করতে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

