বুধবার, জুন ৩, ২০২৬

গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী ময়নুল হকের বিরুদ্ধে টেন্ডার কার’সাজি ও সরকারি অর্থ আ’ত্মসাতের অ’ভিযোগ

গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম (ইলেক্ট্রো-মেকানিক্যাল) ডিভিশন-৩-এর নির্বাহী প্রকৌশলী এস. এম. ময়নুল হকের বিরুদ্ধে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর) লঙ্ঘন, টেন্ডার কারসাজি, কমিশন বাণিজ্য এবং বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এবং সরকারের বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২১ মে সংশ্লিষ্ট টেন্ডার বাতিল এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি আইনি নোটিশ পাঠায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স এমএস ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড’। পরবর্তীতে ৩১ মে মো. সাদিক মাহমুদ নামে এক গণমাধ্যমকর্মী দুদকে নির্বাহী প্রকৌশলী ময়নুল হকের বিরুদ্ধে পৃথক লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

সিভিল কাজ ছাড়াই ই/এম টেন্ডার আহ্বানের অভিযোগ

অভিযোগে বলা হয়েছে, গণপূর্ত ই/এম ডিভিশন-৩ সম্প্রতি দুটি বড় ইলেক্ট্রো-মেকানিক্যাল কাজের জন্য টেন্ডার আহ্বান করেছে, যার টেন্ডার আইডি ১২৭৩৮৯৮ ও ১২৭৩৮৯৯।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর) অনুযায়ী প্রকল্পের সিভিল বা অবকাঠামোগত কাজের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হওয়ার পর ই/এম কাজের দরপত্র আহ্বান করার বিধান রয়েছে। কিন্তু বাস্তব অগ্রগতি ছাড়াই তড়িঘড়ি করে এসব টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে, যা নীতিমালা পরিপন্থী বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সিভিল কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই এ ধরনের দরপত্র আহ্বান করলে প্রকল্প বাস্তবায়নে কয়েক বছরের বিলম্ব হতে পারে। এতে বাজারদর বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তন, যন্ত্রপাতির প্রযুক্তিগত অপ্রচলনসহ বিভিন্ন ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি সময় বৃদ্ধি, মূল্য সমন্বয় এবং ক্ষতিপূরণ দাবির মাধ্যমে সরকারি অর্থের অতিরিক্ত ব্যয়ের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।

নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, দরপত্রের শর্তাবলীতে এমন কিছু বিশেষ যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার শর্ত যুক্ত করা হয়েছে, যা সাধারণ ও যোগ্য অনেক ঠিকাদারের অংশগ্রহণকে সীমিত করতে পারে।

অভিযোগকারীদের দাবি, নির্দিষ্ট একটি সিন্ডিকেট বা পছন্দের ঠিকাদারকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে দরপত্রের শর্তে কৌশলগত পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং গোপনীয় তথ্য ফাঁসের মাধ্যমেও প্রতিযোগিতা সীমিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রকল্প নিয়েও অভিযোগ

দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, এর আগে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লিফট স্থাপন প্রকল্পেও এস. এম. ময়নুল হকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকল্পে উচ্চমানের আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের লিফট স্থাপনের কথা থাকলেও সেখানে নিম্নমানের লিফট স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে অতিরিক্ত বিল উত্তোলনের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

৩০টির বেশি টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ

অভিযোগকারীদের দাবি, বর্তমানে ঢাকা ই/এম ডিভিশন-৩-এর অধীনে পরিচালিত অন্তত ৩০টিরও বেশি টেন্ডারে একই ধরনের কমিশন বাণিজ্য ও অনিয়মের সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ), গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরের কাছেও লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

টেন্ডার স্থগিতের দাবি, আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এমএস ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড তাদের আইনি নোটিশে টেন্ডার আইডি ১২৭৩৮৯৮ ও ১২৭৩৮৯৯ অবিলম্বে স্থগিত অথবা বাতিলের দাবি জানিয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, অভিযোগগুলোর বিষয়ে দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে সংক্ষুব্ধ পক্ষ উচ্চ আদালতে রিট আবেদনসহ প্রয়োজনীয় আইনগত প্রতিকার চাইবে।

অভিযোগপত্রের অনুলিপি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিব, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ