সোমবার, জুন ১, ২০২৬

পুরোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেরামত ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন, বছরে হাজার হাজার কোটি টাকার অপচয়ের অ’ভিযোগ

দেশের পুরোনো ও অদক্ষ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মেরামত ও পরিচালনা ব্যয় নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষকদের একাংশের দাবি, কয়েক দশক পুরোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সচল রাখতে বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, একটি আধুনিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে যেখানে প্রায় ৩ থেকে ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে, সেখানে ৩০ থেকে ৪০ বছর পুরোনো কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওভারহোলিং ও মেরামতের নামে প্রতি বছর শত শত কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব ব্যয়ের একটি অংশের যথার্থতা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

জ্বালানি দক্ষতার ক্ষেত্রেও পুরোনো কেন্দ্রগুলোকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, আধুনিক কম্বাইন্ড সাইকেল গ্যাস টারবাইন (CCGT) বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি দক্ষতা যেখানে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, সেখানে অনেক পুরোনো কেন্দ্র একই পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি গ্যাস বা জ্বালানি ব্যবহার করে। এর ফলে রাষ্ট্রকে অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এছাড়া বিদ্যুৎখাতে ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, উৎপাদন সক্ষমতা ধরে রাখার শর্তে কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করা হয়, যদিও বাস্তবে সেসব কেন্দ্রের উৎপাদন কার্যক্রম সীমিত বা বন্ধ থাকতে পারে। তবে এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

এদিকে, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ এবং বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির পেছনে এসব ব্যয়ের প্রভাব রয়েছে কি না, তা নিয়েও জনমনে আলোচনা চলছে। অনেকের মতে, বিদ্যুৎখাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ব্যয় ব্যবস্থাপনায় অধিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।

তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মেরামত ব্যয়, জ্বালানি অপচয় এবং ক্যাপাসিটি চার্জ সংক্রান্ত অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে স্বাধীন নিরীক্ষা ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিদ্যুৎখাতের সামগ্রিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ভোক্তাদের ওপর আর্থিক চাপ কমাতে পুরোনো কেন্দ্রগুলোর কার্যকারিতা পুনর্মূল্যায়ন, আধুনিকায়ন অথবা পর্যায়ক্রমে অবসরের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ