
মুন্সীগঞ্জের বিসিক কেমিক্যাল শিল্প পার্ক প্রকল্পে (প্রজেক্ট আইডি: ২২৪২৭৮৯০০) সম্প্রতি প্রকাশিত দুটি টেন্ডারকে কেন্দ্র করে ঠিকাদার মহলে আলোচনা ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।
ই-জিপি (e-GP) পোর্টালে ১৮ মে ২০২৬ তারিখে প্রকল্প পরিচালক মুহাম্মাদ হাফিজুর রহমানের নামে টেন্ডার আইডি ১২৭৮২৩০ (APP ID: ২১৮৩৫২, Re-tendered ID: ১২০৮১৪৬) এর মাধ্যমে “Construction of Jetty” এবং একই দিনে টেন্ডার আইডি ১২৭৮৩৩৭ (APP ID: ২১৮৩৫২, Re-tendered ID: ১২০৮১২০) এর মাধ্যমে “Construction of Dumping Yard and Incinerator” কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়।
সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ঠিকাদার অভিযোগ করেছেন, যদিও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় পিপিআর অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমা অনুসরণ করা হয়েছে, তবে দরপত্র বিক্রি, জমাদান, ক্লোজিং ও উন্মুক্তকরণের সময়সূচি এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যা প্রতিযোগিতামূলক অংশগ্রহণকে সীমিত করতে পারে। তাদের দাবি, ১৮ মে থেকে ৪ জুন ২০২৬ সময়কালের মধ্যে ঈদুল আজহা উপলক্ষে দীর্ঘ সরকারি ছুটি থাকায় আগ্রহী ঠিকাদারদের জন্য টেন্ডার প্রস্তুত ও জমা দেওয়ার বাস্তবসম্মত সুযোগ কমে যায়।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এতে নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। তবে এ বিষয়ে প্রকল্প কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, টেন্ডার নথিতে যোগাযোগের জন্য উল্লেখিত প্রকল্প কার্যালয়ের ঠিকানায় গিয়ে প্রকল্প পরিচালক বা দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের নিয়মিত উপস্থিতি পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, প্রকল্প পরিচালক মাঝে মধ্যে স্বল্প সময়ের জন্য এলাকা পরিদর্শন করলেও নিয়মিত অবস্থান করেন না।
এছাড়া টেন্ডার নথিতে দেওয়া একটি টেলিফোন নম্বর অকার্যকর বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট নম্বরটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারযোগ্য নয়। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক মহলের কয়েকজন পর্যবেক্ষক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
অন্যদিকে, প্রকল্প পরিচালক মুহাম্মাদ হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অনিয়ম, আর্থিক দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে একাধিক কারণ দর্শানোর নোটিশ ও বিভাগীয় মামলার বিষয়ও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা হাফিজুর রহমানের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক মুহাম্মাদ হাফিজুর রহমান, বিসিক কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তরের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হবে।

