
যুগ্ম সচিব শামসুল আলমকে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) পদে বদলিকে ঘিরে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন ও চুক্তির অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি বিভিন্ন মহলে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি চুক্তিপত্র ও আর্থিক নথি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, চলতি মাসের ৩ তারিখে রাজউকের সদস্য হিসেবে যোগদানের পরপরই শামসুল আলম বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বড় অঙ্কের ঋণ ও আর্থিক চুক্তিতে যুক্ত হন। অভিযোগ রয়েছে, এসব অর্থ ভবিষ্যতে বিভিন্ন কাজ বা প্রকল্পের মাধ্যমে পরিশোধের অঙ্গীকারও করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ১৬ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার চুক্তি করা হয়েছে, যেখানে ১৮ মাস পর ২০ কোটি টাকা পরিশোধের শর্ত উল্লেখ রয়েছে। অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে করা চুক্তিতে ২৪ মাসের মধ্যে সুদ ও লভ্যাংশসহ ৫৬ কোটি টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এমন অন্তত চার থেকে পাঁচটি চুক্তিপত্র বিভিন্ন সূত্রের হাতে এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, এসব চুক্তিপত্রে উল্লেখ রয়েছে—ঋণের অর্থ নগদ অথবা “কাজের মাধ্যমে” পরিশোধ করা হবে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে, কারণ “কাজের মাধ্যমে” অর্থ পরিশোধের বিষয়টি রাজউকের বিভিন্ন প্রকল্প বা কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, এসব চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে শামসুল আলমের রাজউকে সদস্য হিসেবে নিয়োগের সময় এবং চলতি মাসের ১০ ও ১১ তারিখের মধ্যে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রাপ্ত অর্থের একটি অংশ তার বদলি ও নিয়োগসংক্রান্ত ব্যয় মেটাতেও ব্যবহৃত হয়েছে।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, চুক্তিকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে গ্যারান্টি হিসেবে তিনি নিজের ব্যাংক হিসাবের ফাঁকা চেক প্রদান করেছেন। এমন একটি ব্যাংক চেকের কপিও বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে বলে জানা গেছে।
ঠিক কী কারণে তিনি স্বল্প সময়ে এত বড় অঙ্কের ঋণ নিয়েছেন এবং আগামী ২৪ মাসে শত কোটি টাকার বেশি অর্থ কীভাবে পরিশোধ করবেন—তা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে যুগ্ম সচিব শামসুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট মহলের অভিযোগ, শামসুল আলম অতীতেও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার সাম্প্রতিক আর্থিক চুক্তিগুলো নিয়ে প্রশাসনিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
তবে প্রকাশিত নথিপত্র ও চুক্তিগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

