
‘জনপ্রতিনিধিদের গুরুত্ব না দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে প্রশাসনে’
পুলিশের এক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) ও ফায়ার সার্ভিসের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যোগাযোগের পরও সাড়া না দেওয়ার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট-লালমাই) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া তার একটি স্ট্যাটাস ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
১৭ মে দেওয়া ওই দীর্ঘ স্ট্যাটাসে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, প্রশাসনের একটি অংশের মধ্যে জনপ্রতিনিধিদের গুরুত্ব না দেওয়ার অঘোষিত প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনী এলাকার ফায়ার সার্ভিসসংক্রান্ত একটি বিষয়ে আলোচনা করতে তিনি ফায়ার সার্ভিসের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ও যুগ্মসচিব সারোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। প্রথমদিকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সহযোগিতার আশ্বাস দিলেও পরে আর সাড়া দেননি বলে দাবি করেন তিনি।
এমপির ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে ওই কর্মকর্তা তাকে বলেন, “আপনার নির্বাচনী এলাকার আমার কিছু সিনিয়র অফিসার আছেন, তাদের কথাও তো মাঝে মাঝে শুনতে হয়।”
এ বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া পাল্টা প্রশ্ন করেন, “তারা কি একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের চেয়েও বড় হয়ে গেল?”
নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এলাকার জনগণ তাকে ভোট দিয়ে সংসদে পাঠিয়েছেন এবং তাদের উন্নয়ন ও সমস্যার সমাধানে কাজ করা তার দায়িত্ব। কিন্তু প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তার আচরণে জনপ্রতিনিধিদের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির প্রসঙ্গ টেনে এমপি জানান, ঢাকায় সাক্ষাতের সময় তিনি নিজের নির্বাচনী এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সহযোগিতা চেয়েছিলেন। পরে একাধিকবার ফোন ও মেসেজ দিলেও সাত দিন পর্যন্ত কোনো প্রতিউত্তর পাননি।
স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, “আমি তাকে কল দিয়েছি, মেসেজ দিয়েছি। সাত দিন পার হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। তখন ভাবতে বাধ্য হয়েছি, সাধারণ মানুষ সহযোগিতা চাইলে তাদের কী অবস্থা হয়!”
তবে তিনি এও উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা হয়তো ব্যস্ত ছিলেন এবং সুযোগ হলে ভবিষ্যতে যোগাযোগ করতে পারেন।
সবশেষে নিজের নির্বাচনী এলাকার জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা তুলে ধরে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া বলেন, জনগণের কল্যাণে কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় নিজেকে ছোট হতে হয়। তারপরও এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের স্বার্থে নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবেন বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

