বৃহস্পতিবার, মে ১৪, ২০২৬

কেওয়াটখালী সেতু প্রকল্পে অ’নিয়মের অ’ভিযোগ, সওজ কর্মকর্তার বি’রুদ্ধে ত’দন্ত দা’বি

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ডেপুটেশন) এবং ‘ময়মনসিংহে কেওয়াটখালী সেতু নির্মাণ’ প্রকল্পের পরিচালক এ কে শামছ্উদ্দিন আহাম্মদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়ম, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি চাকরির স্বল্প আয়ের বিপরীতে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে-বেনামে শত শত কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, কেওয়াটখালী সেতু নির্মাণ প্রকল্পে অনুমোদিত নকশা পরিবর্তন করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জমি অধিগ্রহণের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। পরে আদালতে রিট দায়ের হলে অনুমোদিত নকশার বাইরে সব ধরনের কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন আদালত।

অভিযোগ রয়েছে, মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেয়া, ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ এবং একটি শক্তিশালী ঠিকাদার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রকল্প নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি। নিম্নমানের কাজ হলেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের বিল পরিশোধ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে।

অনুসন্ধানে তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে রাজধানীর ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, বরিশালসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও বাড়ির তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ধানমন্ডিতে একাধিক ফ্ল্যাট, মোহাম্মদপুরে ‘ওরিয়েন্টাল ডি’মনোয়ারা’ নামে ছয়তলা বাড়ি এবং বরিশালে ‘নেহার ভবন’ নামে একটি বাড়ির তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, অতীতে পরিবারের আর্থিক অবস্থা স্বাভাবিক থাকলেও ১৯৯৯ সালে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরে যোগদানের কয়েক বছরের মধ্যেই তার সম্পদের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। অভিযোগ রয়েছে, তার পরিবারের সদস্যদের নামেও বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সম্পদ রয়েছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, তার বড় মেয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষায় অধ্যয়নরত এবং পরিবারটি নিয়মিত বিদেশ ভ্রমণ করে থাকে। একই সঙ্গে তার ছোট বোনের মাধ্যমে অবৈধ অর্থ ব্যাংকে এফডিআর করার অভিযোগও উঠেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ) তার আর্থিক লেনদেন পর্যবেক্ষণ করছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

এর আগে ঝালকাঠি সওজে কর্মরত থাকাকালেও তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল বলে জানা গেছে। সম্প্রতি মোতালেব হোসেন নামে এক ঠিকাদার তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এ কে শামছ্উদ্দিন আহাম্মদ। তিনি বলেন, কোনো প্রকল্পের নকশা পরিবর্তন করা একজন প্রকল্প পরিচালকের একক সিদ্ধান্তে সম্ভব নয় এবং জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি জেলা প্রশাসনের এখতিয়ারাধীন। অবৈধ সম্পদের অভিযোগও তিনি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, তার বড় মেয়ে ফুল স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশে পড়াশোনা করছেন এবং ছোট মেয়ে নিজে চাকরি করেন। তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতেই মিথ্যা অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (প্রশাসন) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দুর্নীতির অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ