শনিবার, মে ২, ২০২৬

বিআরটিএ চট্টগ্রামে দালাল সিন্ডিকেটের দাপট, ঘুষ ছাড়া মিলছে না সেবা

চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদ থানাধীন বালুচরা এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) কার্যালয়কে ঘিরে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, অফিসের ভেতরে কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বাইরে সক্রিয় দালালচক্রের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট, যার নিয়ন্ত্রণে চলছে পুরো সেবা কার্যক্রম।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ড্রাইভিং লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন কিংবা ফিটনেস—প্রতিটি সেবা পেতে নির্ধারিত সরকারি ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য হচ্ছেন সেবাপ্রার্থীরা। অভিযোগ রয়েছে, ঘুষ ছাড়া কোনো কাজই সম্পন্ন হচ্ছে না। এমনকি নির্ধারিত পরীক্ষা ছাড়াই অর্থের বিনিময়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার মতো গুরুতর অনিয়মও চলছে বলে জানা গেছে। এতে সড়কে অদক্ষ চালকের সংখ্যা বাড়ছে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রো-২ সার্কেলের উপ-পরিচালক (ইঞ্জি.) মো. সানাউল হক। সংশ্লিষ্টদের দাবি, তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে একটি সংঘবদ্ধ চক্র এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর আগে সিলেট ও মিরপুর কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে অনুরূপ অভিযোগ ওঠে। সিলেটে শ্রমিক অসন্তোষের মুখে তাকে বদলি করা হলেও চট্টগ্রামে এসে আবারও একই ধরনের সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে।

এই চক্রের সঙ্গে জড়িত হিসেবে কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দালালের নামও সামনে এসেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এদের মাধ্যমে নির্ধারিত হারে ঘুষ আদায় করা হয় এবং দ্রুত সেবা প্রদান করা হয়।

মাঠপর্যায়ের একাধিক ভুক্তভোগী জানান, তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কাজ করতে পারছেন না। অথচ দালালের মাধ্যমে আসা ব্যক্তিরা অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে অল্প সময়েই সব কাজ সম্পন্ন করে ফেলছেন। চোরাই গাড়ির মালিকানা পরিবর্তন, পরিদর্শন ছাড়াই রেজিস্ট্রেশন এবং গাড়ি উপস্থিত না রেখেই ফিটনেস সনদ দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রতিটি সেবার জন্য আলাদা ‘রেট’ নির্ধারিত রয়েছে। বাসের রুট পারমিট ও ফিটনেসে ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা, হিউম্যান হলারে ৫ থেকে ৬ হাজার, ট্রাকে ২ থেকে ১৫ হাজার এবং অটোরিকশায় নির্দিষ্ট অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে। ড্রাইভিং লাইসেন্সের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যে বিআরটিএকে দুর্নীতিপ্রবণ একটি খাত হিসেবে চিহ্নিত করেছে। মাঝে মাঝে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে দালালদের আটক করা হলেও মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে পরিস্থিতির তেমন কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না।

এ বিষয়ে উপ-পরিচালক মো. সানাউল হকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ এই সেবা প্রতিষ্ঠানকে দালালমুক্ত ও স্বচ্ছ করতে হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি। নইলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে এবং সড়ক নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ