
মাসুদ চৌধুরী সাঈদ, মানিকগঞ্জ:
মাদক আর দেহব্যবসার স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছে মানিকগঞ্জ শহর। বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনের অভিযান হলেও থেমে নেই এই জঘন্য অপকর্ম। অপরাধজগতের জাল বিস্তার করেছে কিছু প্রভাবশালীদের ক্ষমতায়। তবে, প্রভাবশালী ও প্রভাবশালী বাড়িওয়ালাদের সিন্ডিকেটে চলে আসছে বিভিন্ন অপরাধমূলক অপকর্ম। প্রশাসনের নজরে থাকলেও স্বাধীনতা ছিলো অপরাধজগতের বাসিন্দাদের। বাড়িওয়ালা ঠিক তো সব ঠিক। কারণ, নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে দিচ্ছে বাড়ি ভাড়া। স্বাভাবিক বাড়ি ভাড়ার চাইতে এভাবে লাভ বেশি। অপরাধজগতের ব্যাক্তিদের বেশি ভাড়ায় বাড়ি ভাড়া দিতে পারে। এমনকি খন্ডকালীন ও ঘন্টা চুক্তি রুম ভাড়া দিলে স্বাভাবিক ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া উত্তোলন করতে করতে পারে। একটি রুমের আনুমানিক ভাড়া যদি হয় ৩ হাজার।
সেই রুম থেকে প্রায় ১০ হাজার টাকা লুফে নেন বাড়িওয়ালা। অনুসন্ধানে দেখা যায়, শহরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অপকর্ম চলে সেওতা, সদর হাসপাতাল প্রধান ফটকের সামনে কাঁচাবাজার এলাকা, সদর হাসপাতালের পূর্ব অংশ, জয়ড়া এলাকা, বাসস্ট্যান্ডের পুর্ব অঞ্চল, মানড়াসহ চিপা চাপা বাসা গুলোতে চলে নানা অপকর্ম।
এই অপকর্মের বেশিরভাগ হচ্ছে নারী। কঠিন পথ সহজ হয় নারীর কারণে। এই সমস্ত নারীরা জেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চল ও জেলার বাইরে থেকে আগত। এরা আসে মানিকগঞ্জ শহরে ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে উঠা নামে বেনামে হাসপাতাল ক্লিনিকে চাকরি করতে। চাকরির সুবাদে পাড়ি জমান এই শহরে। তারা বাড়ির পরিবারকে বলেন হাসপাতালে চাকরি করি। অথচ তথ্যসুত্রে জানা যায়, হাসপাতালে কোন চাকরি নাই। শুধু দালালি আর সেবাদাসী। কতৃপক্ষ এই নারীদের বিভিন্ন অফিসার বানিয়ে ভিজিটিং কার্ড ধরিয়ে দিয়ে ছেড়ে দেন দালালী করার জন্য। যে যত রোগী আনতে পারবে সে তত কমিশন পাবেন। আবার যাদের চেহারা সুন্দর (স্মার্ট) তাদের রেখেছেন ডাঃ ও মালিকদের সেবাসহ নানা সুবিধার জন্য। যারা হাসপাতাল- ক্লিনিকের নামে চাকরি করেন শুধু মাত্র নামে। ঐ নারীদের সাথে (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) কথা বলে জানা যায়, ৫/৬ মহিলা মিলে রুম নিয়ে একক জনের সুবিধামতো কাস্টমার এনে দেহব্যবসার মাধ্যমে টাকা উপার্জন করে। বাড়ি যাওয়ার সময় মোটা অংকের টাকা নিয়ে ফিরেন। অপরদিকে কিছু মহিলা বাড়িতে স্বামী ও সন্তান সহ পরিবারে বলে আসেন হাসপাতালে চাকরি করি।
অথচ শহরে অন্য পুরুষের সাথে চুক্তি করে স্বামী বানিয়ে বাসা ভাড়া নিয়ে সপ্তাহে ৫ দিন থাকে। আর নিজ স্বামী- সন্তানের সাথে ২ দিন। ভাড়াটিয়া স্বামীকে নিয়ে বাসায় চলে অসামাজিক কার্যকলাপ। ভাড়াটিয়া স্বামীর মূলধন মাত্র পরিচয়। বাসা ভাড়া আর খাওয়া ঐ নারীর। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে পত্র- পত্রিকা ও গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে প্রশাসন অনেকবার অভিযান চালিয়ে এদের জেলহাজতে পাঠান। তারপর জামিনে এসে কিছুদিন গাঢাকা দিয়ে পুনরায় আবার শুরু করে এই অপকর্ম। গোপন সংবাদে আরো বেড়িয়ে আসে হাসপাতাল- ক্লিনিকে রাতে বিছানা ভাড়া দেওয়া হয় পতিতাদের জন্য। মানিকগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র ঐতিহ্যবাহী নবীন সিনেমা হল। সেখানেও চলে পতিতাবৃত্তি। বিশেষ করে ওখানে স্কুল- কলেজের শিক্ষার্থীরা টাকার জন্য দেহব্যবসা করতে যায়। সিনেমা শো চলাকালীন ৪/৫ শত টাকা জোড়া। সেখানেও কয়েকবার অভিযান পরিচালিত হয়। গত ২৭ এপ্রিল সোমবার রাত আনুমানিক ১০ ঘাটিকায় মানিকগঞ্জে পৌরসভার উত্তর সেওতা মার্কাজ মসজিদের পাশে অভিযান চালিয়ে বাসার মালিকসহ ৩ জনকে আটক করে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মাসে সেওতা এলাকার সদর উদ্দিন ভূঁইয়ার বাড়ি ফ্ল্যাট এক নারীর কাছে ভাড়া দেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই ফ্ল্যাটে গোপনে দেহব্যবসা পরিচালিত হতো। বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ থাকলেও এ ঘটনায় তা প্রকাশ্যে আসে। আব্দুল হক নামের এক ব্যক্তি ওই ফ্ল্যাটে গেলে দেহব্যবসা সংক্রান্ত নারীর সাথে টাকা নিয়ে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে বাড়ির মালিক সদর উদ্দিন সেখানে উপস্থিত হয়ে আব্দুল হককে মারধর করেন এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করে তাকে আটকে রাখেন। বাসার মালিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে আব্দুল হককে মুক্তি দেওয়ার শর্তে তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ৮ হাজার টাকা দিলেও তাকে ছেড়ে দেয়নি।
পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা পান এবং বাড়ির মালিকসহ ৩ জনকে আটক করেন। এ সমস্ত অপকর্ম বন্ধ করতে ও সুন্দর পরিবেশ রাখতে দাবি স্থানীয়দের। মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ ইকরাম হোসেন বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। দেহব্যবসা ও অপরাধ বন্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

