শনিবার, এপ্রিল ২৫, ২০২৬

সরকারি অফিস সহকারীর বিলাসী জীবন ও দু’র্নী’তির অভিযোগে তোলপাড়, দুদকের তদন্ত দাবি

মাত্র নয় বছর আগে সরকারি চাকরিতে অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক হিসেবে যোগ দেন মো. সুমন আহমদ। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই তার জীবনযাত্রা বদলে যাওয়ায় মৌলভীবাজারের জুড়ী ও রাজনগর উপজেলায় ব্যাপক আলোচনা ও বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, বর্তমানে তিনি বিলাসবহুল গাড়িতে চলাফেরা, আকাশপথে যাতায়াত এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মতো জীবনযাপন করছেন। স্থানীয়দের দাবি, একজন সাধারণ কর্মচারীর এমন জীবনধারা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

২০১৫ সালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে যোগদানের পর হবিগঞ্জের বাহুবলে প্রথম পদায়ন পান তিনি। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে জুড়ী উপজেলায় বদলি হওয়ার পর তার প্রভাব বাড়তে থাকে। বর্তমানে তিনি রাজনগর উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, সাবেক এক জাতীয় সংসদ সদস্যকে আত্মীয় পরিচয় দিয়ে তিনি দপ্তরে প্রভাব বিস্তার করেন এবং সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে নিজ কার্যালয়ে ব্যক্তিগত নামফলক ব্যবহার করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পে অর্থ আত্মসাতের জন্য একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পিআইসি কমিটির সভাপতি জাল স্বাক্ষর দিয়ে বিল উত্তোলন এবং ভুয়া সভাপতি তৈরি করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের চুক্তিপত্রে নির্ধারিত নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ব্যবহার না করলেও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে স্ট্যাম্পের টাকা নিয়মিত আদায় করা হতো।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, প্রতিটি বিল পাস করাতে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কমিশন দিতে হতো এবং টাকা না দিলে নানা অজুহাতে কাজ আটকে দেওয়া হতো।

এছাড়া মুজিব শতবর্ষের ঘর নির্মাণ প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কোনো ড্রয়িং বা নকশা অনুসরণ না করে কাজ সম্পন্ন করা হয়, যার ফলে অনেক ঘর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে এতিমখানা, লিল্লাহ বোর্ডিং ও অনাথ আশ্রমে বরাদ্দকৃত চাল বিতরণেও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন, নির্ধারিত চালের বিপরীতে নামমাত্র অর্থ প্রদান করে বাকি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

স্থানীয় একাধিক জনপ্রতিনিধি অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে জানান, বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রভাব খাটিয়ে কাজ পরিচালনা করা হতো।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মো. সুমন আহমদ বলেন, দায়িত্বের কারণে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে। বিলাসবহুল গাড়ি তার নিজের নয়, ছোট ভাইয়ের বলে দাবি করেন তিনি।

তবে একজন সাধারণ কর্মচারীর এমন জীবনযাপন ও সম্পদের উৎস নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ