
খুলনা ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) ঝুমুর বালার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় শোক অবমাননা, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ তুলে তার অপসারণ ও শাস্তির দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে খুলনা ওয়াসা কর্মচারী ইউনিয়ন।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক আরিফুল ইসলামের মাধ্যমে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ঘোষিত রাষ্ট্রীয় শোক ও সরকারি ছুটির নির্দেশনা উপেক্ষা করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী ওইদিন জাতীয় পতাকা যথাযথভাবে অর্ধনমিত করা হয়নি, কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়নি এবং অফিস খোলা রাখা হয়। এমনকি শোকের পরিবেশের পরিবর্তে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয় বলেও দাবি করা হয়েছে। এ বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহে গেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও তোলা হয়।
এছাড়া স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, ঝুমুর বালার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়, জ্বালানি খাতে অতিরিক্ত ব্যয়, ভুয়া বেতন বিলের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং তদন্ত কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। খুলনা ওয়াসার বিভিন্ন প্রকল্পে কোটি কোটি টাকার অনিয়ম ও ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে। তার পূর্ববর্তী কর্মস্থল বাগেরহাট জেলা পরিষদ ও বরিশালের উজিরপুরেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করা হয়।
খুলনা ওয়াসা কর্মচারী ইউনিয়নের নেতারা জানান, এর আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে এ বিষয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাই এবার তারা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জি.এম আব্দুল গফফার, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. রবিউল ইসলাম, সহ-সভাপতি নূর করিম, সাংগঠনিক সম্পাদক একরাম হোসেন, দপ্তর সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ এবং সাংস্কৃতিক সম্পাদক রেজাউল করিমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
অভিযোগের বিষয়ে খুলনা ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) ঝুমুর বালা বলেন, তিনি স্মারকলিপির বিষয়ে অবগত নন। তার ভাষ্য, “অভিযোগ করতেই পারে, কিন্তু অভিযোগ করলেই তা সত্য হয়ে যায় না।”

