
প্রায় ২০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তাধীন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের (ডিওআইসিটি) সহকারী প্রোগ্রামার আনজুম রিয়াসাত বদলির আদেশ উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন ধরে ঢাকাতেই অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
২০১৯ সালে সহকারী প্রোগ্রামার পদে সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়া আনজুমের মূল কর্মস্থল চাঁদপুর সদর উপজেলা হলেও তিনি বারবার ঢাকায় অবস্থান বজায় রেখেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করে তিনি একাধিকবার বদলি আদেশ পরিবর্তন করিয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সরকারি চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই তিনি বিভিন্ন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার পরিচয় দেন। পরে এই প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে আইসিটি অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ‘ইডিসি প্রকল্প’-এ অতিরিক্ত দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ আরও জোরালো হয়।
২০২৩ সালে তাকে চাঁদপুরে বদলি করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই আবার ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হয় বলে জানা গেছে। ২০২৪ সালের এপ্রিলে তিনি পুনরায় ঢাকায় বদলি হন এবং পরে আবারও বদলির আদেশ দেওয়া হলেও বাস্তবে তিনি ঢাকাতেই অবস্থান করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অক্টোবরে জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সিতে সংযুক্তিতে পদায়নের পর তিনি আবারও ঢাকায় অবস্থান নিশ্চিত করেন। এ সময় তার ঘনিষ্ঠদের সহযোগিতায় প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও উঠেছে।
সূত্রের দাবি, বিভিন্ন প্রকল্পে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটিয়ে নিজের পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং গোপন তথ্য ফাঁসের অভিযোগও তদন্তাধীন রয়েছে।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা পড়ার পর দুদক অনুসন্ধান শুরু করে। অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ২০০ কোটি টাকার বেশি অর্থ আত্মসাত, প্রকল্পে অনিয়ম এবং তথ্য পাচারের অভিযোগ উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগ তদন্তের মধ্যেই ২০২৫ সালের আগস্টে তাকে চাঁদপুরে বদলি করা হলেও তিনি সেখানে নিয়মিতভাবে উপস্থিত না থেকে ঢাকাতেই অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। মাঝে মাঝে কর্মস্থলে হাজিরা দিয়ে স্বাক্ষর করে আবার ঢাকায় ফিরে আসেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে আইসিটি অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অভ্যন্তরীণ প্রভাবশালী একটি চক্র তাকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আনজুম রিয়াসাত। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বদলি ও দায়িত্ব পালনের বিষয়ে তিনি নিয়ম অনুযায়ী কাজ করছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তথ্য সংগ্রহ ও তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

