রবিবার, মে ৩, ২০২৬

চসিকে নিয়মবর্হিভূত নিয়োগ

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে ২৫টি শূন্যপদে গাড়িচালক নিয়োগ অথবা অস্থায়ী থেকে স্থায়ীকরণে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রণালয়। কিন্তু সংস্থাটি নিয়মবহির্ভূতভাবে ২০৪ চালককে স্থায়ী করেছে।

চসিক সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের জনবলকাঠামো অনুযায়ী গাড়িচালকের মোট পদ ছিল ১০৭টি। এর মধ্যে ভারী গাড়িচালকের পদ ৬৫টি, হালকা গাড়ির চালক ৩০টি এবং অ্যাম্বুলেন্স চালকের ১২টি পদ রয়েছে। ২০১৮ সালের আউটসোর্সিং নীতিমালার পর চসিকের গাড়িচালকদের চাকরি আউটসোর্সিংয়ে চলে যায়। বিষয়টি নিয়ে চালকদের মাঝে চরম অসন্তোষ দেখা দেয়। চাকরি রাজস্ব খাতে এনে স্থায়ীকরণের দাবিতে তারা আন্দোলন শুরু করেন।

বিষয়টি নিয়ে গাড়িচালকরা তৎকালীন মেয়রের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠকও করেন। মেয়র তাদের চাকরি রাজস্ব খাতে এনে স্থায়ীকরণে বার বার আশ্বাস দেন। ৫ আগস্টের পর মেয়রের পদ শূন্য হলে প্রশাসক নিয়োগ দেয় সরকার। তৎকালীন প্রশাসকের নির্দেশে গত বছরের ২৭ মে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চালকসহ বিভিন্ন পদে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কর্মরত ৫৩১ পদকে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠান।

ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ফিরোজ মাহমুদ ৫৩১টি পদকে আউটসোর্সিং খাত থেকে চসিকের রাজস্ব খাতে আনার প্রক্রিয়ার জন্য অর্থ বিভাগে চিঠি দেন। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে ওই চিঠির কোনো জবাব আসেনি।

তারও আগে গত বছরের ১৯ মে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাংগঠনিক কাঠামোভুক্ত সরাসরি নিয়োগযোগ্য শূন্য হওয়া পদগুলো পূরণের জন্য ছাড়পত্র দেয় মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ফিরোজ মাহমুদ স্বাক্ষরিত চিঠিতে ২০২৬ সালের ১৮ মের মধ্যে মোট ১ হাজার ১২৫ জন জনবল নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। যেখানে গাড়িচালক পদে স্থায়ীকরণ অথবা লোক নিয়োগের নির্দেশনা রয়েছে ২৫ জনের। কিন্তু সিটি করপোরেশনের ২০৪ জন অস্থায়ী গাড়িচালককে স্থায়ী করেছেন মেয়র। যা সংস্থাটির জনবল কাঠামোতে থাকা গাড়িচালকের শূন্যপদের চেয়ে ৯৭ জন বেশি।

বঞ্চিতদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মেয়রের ঘোষণা ছিল ১০ বছরের বেশি সময় ধরে চাকরি করা চালকদের স্থায়ী করা হবে। তাদের সঙ্গে চারজন ‘ভিআইপি কর্মকর্তার’ গাড়িচালককেও স্থায়ী করার ঘোষণা দেন। কিন্তু বাস্তবে ১০ বছরেরও কম সময় চাকরি করছেন এমন অনেক চালক স্থায়ী হয়েছেন বলেও অভিযাগ পাওয়া গেছে। অনেকের ড্রাইভিং লাইসেন্সও জাল। এ ছাড়া চসিকের ডোর টু ডোর প্রকল্পের আওতায় নিয়োগ পাওয়া কেউ কেউ চালক পদে স্থায়ী হয়েছেন বলে অভিযোগ আছে।

এদিকে এত বিপুল সংখ্যক চালককে স্থায়ীকরণের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ক্ষোভে দানা বাঁধছে অন্য পদে দীর্ঘদিন ধরে অস্থায়ী এবং আউটসোর্সিং হিসেবে কাজ করা শ্রমিক কর্মচারীদের মাঝে। রবিবারের (আজ) মধ্যে তাদের স্থায়ী না করলে তারাও আন্দোলনে নামার ঘোষণা দেন। সব ধরনের সেবা কার্যক্রম বন্ধ রাখা হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তারা।

চসিক কর্মচারী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশিদ বলেন, ‘২৫ জনের ছাড়পত্র পেলেও অতিমানবিক হয়ে মেয়র তার চেয়ে অনেক বেশি চালককে স্থায়ী করেছেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অন্য বিভাগের কর্মচারীরা ক্ষোভে ফুঁসছে। রবিবার তারা বিক্ষোভ করতে পারেন। মেয়র যদি তাদের চাকরি স্থায়ী করার প্রক্রিয়া শুরু না করেন তাহলে বঞ্চিতরা আন্দোলনে নামবেন।’

এ বিষয়ে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘অনেক দিন ধরে অসহায় অবস্থায় ঘোরা চালকদের স্থায়ী করেছি। তাদের বেশির ভাগের চাকরির মেয়াদ ১০ বছর পার হয়ে গেছে। তাদের হাইকোর্টের একটা নির্দেশনাও আছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে তাদের স্থায়ী করা হয়েছে।’

মেয়র বলেন, ‘জনবল কাঠামোতে পদ কম থাকলেও উচ্চ আদালতের একটি রায় আছে। এ বিষয়ে আইন কর্মকর্তার মতামত নিয়ে তাদের স্থায়ী করেছি।’

এদিকে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, হাইকোর্টের রায় থাকলেও ওই রায়ের ওপর সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছে সিটি করপোরেশন। আপিলের রায় এখনো আসেনি। তার আগেই শূন্যপদের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ লোকবল স্থায়ী করেছে সংস্থাটি।

@khoborerkagoj

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ