
কর নির্ধারণে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে অভিযান চালিয়ে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে নগরের টাইগার পাসে অস্থায়ী নগর ভবনে অভিযান চালায় দুদকের একটি দল। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া দুদক উপ-পরিচালক সায়েদ আলম।
অনিয়ম পাওয়া প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে দুদকের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘একটা হলো এছাক ব্রাদার্স; আরেকটা ইনকনট্রেড। প্রথমটির ভ্যালুয়েশন ২৬ কোটি টাকা ছিল। পরে তা ঘষামাজা করে ৬ কোটি টাকা করা হয়। ইনকনট্রেডের ২৫ কোটি টাকা ভ্যালুয়েশনকে ঘষামাজা করে ৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। সেটার ওপরে পৌরকর নির্ধারণ করা হয়।’
‘আমরা এখানে ফিল্ড বুক, ট্যাক্স অ্যাসেসমেন্ট তালিকা, পাবলিশড ডকুমেন্ট এবং যে তদন্ত প্রতিবেদন, তা দেখেছি। রাজস্ব সার্কেলটির কর কর্মকর্তা, উপ কর কর্মকর্তা ও হিসাব বিভাগের কর্মচারীরা সম্পৃক্ত। এটা তো ফৌজদারি অপরাধ। আমরা আজ নথিপত্র নিয়ে যাব। ফাইন্ডিংস কমিশনকে জানাব। সেখান থেকে যে নির্দেশনা আসবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিব।’
জানা গেছে, নগরের মধ্যম হালিশহরে অবস্থিত এছাক ব্রাদার্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামের কনটেইনার ডিপোর বার্ষিক কর মূল্যায়ন নির্ধারণ করা হয়েছিল ২৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। পাশাপাশি পতেঙ্গার লালদিয়ার চরে অবস্থিত আরেকটি কনটেইনার ডিপো ইনকনট্রেড লিমিটেডের কর নির্ধারণ করা হয় ২৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।
কিন্তু সিটি করপোরেশনের রাজস্ব বিভাগের কর্মীরা দুই প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত গৃহকরের প্রথম অঙ্ক ‘২’ মুছে দেন। এতে ডিপো দুটির গৃহকর দাঁড়ায় যথাক্রমে ৬ কোটি ৩৮ লাখও ৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। এভাবে জালিয়াতির মাধ্যমে দুটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের গৃহকর কমানো হয় ৪০ কোটি টাকা।
বুধবার অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগে চসিকের রাজস্ব বিভাগের দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। তারা হলেন কর কর্মকর্তা নুরুল আলম ও উপকর কর্মকর্তা জয় প্রকাশ সেন।
অনিয়মে সহায়তা করার অভিযোগে তিন হিসাব সহকারী মঞ্জুর মোর্শেদ, রূপসী রানী দে ও আহসান উল্লাহকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাদের সিটি করপোরেশনের সচিবালয় বিভাগে সংযুক্ত করা হয়। বুধবার এই সিদ্ধান্ত হয়।
দুদকের সহকারী পরিচালক বলেন, তাদের অভিযানে প্রাথমিক তদন্তে ঘষামাজা করে গৃহকর কমিয়ে দেওয়ার প্রমাণ পেয়েছেন। সিটি করপোরেশনের রাজস্ব বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখার নথিপত্র জব্দ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে সিটি করপোরেশন কয়েকজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ছাড়া আরও কর্মকর্তা জড়িত থাকতে পারেন। প্রতিষ্ঠান দুটিও সুবিধাভোগী। আর এটি ফৌজদারি অপরাধ। তাই দুদক ব্যবস্থা নেবে। এখন কমিশনের কাছে প্রতিবেদন পাঠাবেন তারা। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সিটি করপোরেশনের সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন বলেন, ইতিমধ্যে গৃহকর নিয়ে অনিয়মের বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটন করা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দুদক তদন্ত প্রতিবেদন চেয়েছে। দুদককে সিটি করপোরেশনের তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।
@deshrupantor

