শুক্রবার, জুন ১৯, ২০২৬

স্কুলে ৪ বছরের শিশু নির্যাতন, স্কুল ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার বড়ুয়া কারাগারে

এসিএম নিউজ, ঢাকা

রাজধানীর নয়াপল্টনের ‘শারমিন একাডেমি’র প্লে-গ্রুপের ৪ বছরের এক শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেপ্তার স্কুল ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদ কারাগারে পাঠানোর এই আদেশ দেন।
একই সঙ্গে তার রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন শুনানির জন্য আগামী ২৭ জানুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে।
বিকালে পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে আদালতে হাজির করে পল্টন থানা পুলিশ। মামলার তদন্ত
তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নূর ইসলাম তাকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন।
আদালত পবিত্র কুমারকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং রিমান্ড শুনানির জন্য তারিখ ধার্য করেন।

আদালতের পল্টন থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা রুকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, রিমান্ড শুনানির সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে উপস্থিত না থাকায় আদালত আগামী ২৭ জানুয়ারি শুনানির তারিখ ধার্য করেছেন।
এর আগে ভোরে রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে পবিত্র কুমারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে মামলার প্রধান আসামি ও ওই স্কুলের প্রিন্সিপাল শারমিন জাহান এখনও পলাতক রয়েছেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ভুক্তভোগী শিশু ফারয্ বিন আমানের (৪) মা গত ১১ জানুয়ারি তাকে শারমিন একাডেমিতে ভর্তি করান। গত ১৮ জানুয়ারি সকালে শিশুটিকে স্কুলে রেখে আসেন তার মা। দুপুর ১টার দিকে স্কুলে গিয়ে তিনি দেখেন, তার সন্তান প্রচণ্ড ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে কাঁদছে। প্রিন্সিপাল শারমিন জাহান শিশুটির হাত চেপে ধরে আছেন এবং তার স্বামী পবিত্র কুমার বড়ুয়া পাশে বসে আছেন।
বাসায় নেওয়ার পর শিশুটি বারবার কান্না করে বলে, “মা মিস আমাকে মেরেছে, আংকেল মারছে, আমি কিছু করি নাই, আমি তোমাদের বলে দিলে গলায় পাড়া দিবে এবং মুখ সেলাই করে দিবে। আমি স্কুলে যাবো না।”
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরে শিশুর বাবা-মা স্কুলে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেন। সেখানে দেখা যায়, প্রিন্সিপাল শারমিন জাহান শিশুটিকে টেনে হিঁচড়ে অফিসে নিয়ে গিয়ে অনবরত মুখে ও গালে চড়-থাপ্পড় মারছেন। নির্যাতনের একপর্যায়ে ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার বড়ুয়া শিশুটির মুখে স্ট্যাপলার ঢুকিয়ে দেন এবং সোফার সঙ্গে চেপে ধরে অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালান।
নির্যাতনের ফলে শিশুটির মাথা ও ঘাড়ে গুরুতর আঘাত লেগেছে এবং কানে কম শুনতে পাচ্ছে। পরে শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
এ ঘটনায় শিশুটির মা শারমিন ফেরদৌসী বাদী হয়ে গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) পল্টন থানায় শিশু আইনে মামলা দায়ের করেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় নির্যাতনের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। পলাতক প্রিন্সিপাল শারমিন জাহানকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ৫ বছরের শিশুকে কেন নির্যাতন করা হয়েছে সেই রহস্য উদঘাটনের জন্য আসামিকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।

ওইভাবে মারা হয়নি:
আদালতে কাঠগড়ায় হাজির করা হয় পবিত্রকে। কয়েকজন সাংবাদিক তখন তার কাছে শিশু নির্যাতনের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টিকে ভাইরাল করার জন্য যেভাবে নির্যাতনের কথা বলা হচ্ছে, ওইভাবে তাকে মারা হয়নি। তবে পরিবেশ-পরিস্থিতির কারণে ঘটনাটা ঘটেছে। ‘

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ