শনিবার, এপ্রিল ১৮, ২০২৬

অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে সরকারকে সহযোগিতায় প্রস্তুত সেনাবাহিনী: সেনাপ্রধান

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, ‘এখন নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে দেশ। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য সেনাবাহিনী সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে সেনারা মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। আগে এত দীর্ঘ সময় মাঠে থাকতে হয়নি। তাই সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। দূরত্ব থাকলে তা দূর করতে হবে।’

মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সকালে ঢাকা সেনানিবাসে ‘অফিসার্স অ্যাড্রেস’ অনুষ্ঠানে সেনাসদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে এ কথা বলেন সেনাপ্রধান। এতে পদস্থ কর্মকর্তারা সরাসরি উপস্থিত ছিলেন। এসময় সব সেনা স্থাপনার কর্মকর্তারা ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন।

সেনাপ্রধান জোর দিয়ে বলেন, ‘দেশের মানুষ এখন সেনাসদস্যদের দিকে তাকিয়ে আছে। তোমরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাই দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হতে হবে এবং বাহিনীর চেইন অব কমান্ড অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। সেনাবাহিনী একটি পেশাদার সংগঠন। মাঠে দায়িত্ব পালনের সময় পেশাদারিত্ব দেখাতে হবে। প্রতিশোধমূলক কোনো কাজে জড়ানো যাবে না।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ইস্যুতে নানা কটূক্তির জবাবে তিনি বলেছেন, ‘এসব মন্তব্যে অখুশি হওয়ার কিছু নেই। যারা এসব করছে, তাদের বয়স কম। তারা আমাদের সন্তানের বয়সী। তারা বড় হলে নিজেদের ভুল বুঝতে পারবে। তখন নিজেরাই লজ্জিত হবে।’

নাম উল্লেখ না করে সেনাপ্রধান বলেন, ‘একজন সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগ তদন্তাধীন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেনাবাহিনীর কোনো সদস্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়াতে পারবেন না। আরেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগ নিয়েও তদন্ত চলছে। নৈতিক স্খলনের বিষয়ে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তবে মিডিয়া ট্রায়ালের ভিত্তিতে কাউকে সাজা দেওয়া হবে না, অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘একজন সেনা কর্মকর্তাকে গড়ে তুলতে রাষ্ট্র বিপুল অর্থ ব্যয় করে। তাই কেউ যাতে অপরাধে জড়াতে না পারে, সে বিষয়ে আগেভাগেই খেয়াল রাখতে হবে। অপরাধে জড়িয়ে পড়ার পর তাঁকে বাড়ি পাঠিয়ে দিলে সেটি রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় ছাড়া কিছুই নয়।’

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা। ক্ষমতাসীন দলে বিভক্তি এড়াতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। এদিকে এই ঘটনা বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির এই দেশটিকে নতুন রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে। অবশ্য ক্ষমতায় আসার পর ইশিবার জোট সংসদের উভয় কক্ষের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। বার্তাসংস্থাটি বলছে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা ক্ষমতাসীন দলে ভাঙন এড়াতে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন বলে দেশটির গণমাধ্যমে রোববার খবর প্রকাশিত হয়েছে। রয়টার্স যোগাযোগ করলে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের এক মুখপাত্র তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি। তবে সরকার জানিয়েছে, ইশিবা স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় সংবাদ সম্মেলন করবেন। গত বছরের সেপ্টেম্বর ক্ষমতায় আসার পর থেকে ইশিবার জোট সংসদের উভয় কক্ষের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। ভোটারদের মধ্যে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির ক্ষোভ এর অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া গত জুলাইয়ের উচ্চকক্ষ নির্বাচনে হারের পর নিজ দলের ভেতর থেকে পদত্যাগের আহ্বান উঠলেও ইশিবা এতদিন তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। এর মধ্যে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে গত সপ্তাহে ইয়েন ও জাপানি সরকারি বন্ডের বাজারে বড় ধস নামে। বুধবার ৩০ বছরের বন্ডের ফলন ইতিহাসে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে যায়। ইশিবার ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা আরও বাড়ে যখন ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) গত সোমবার নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য বিশেষ ভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়। এই অচলাবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত জাপানের অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। তবে বাজার বেশি নজর দিচ্ছে ইশিবার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে তুলনামূলক শিথিল আর্থিক ও মুদ্রানীতি সমর্থনকারী নেতাদের সম্ভাবনার দিকে। বিশেষ করে সানায়ে তাকাইচির নাম শোনা যাচ্ছে। তিনি ব্যাংক অব জাপানের সুদ বাড়ানোর পদক্ষেপের সমালোচক। এলডিপির নেতৃত্ব নির্বাচনের শেষ পর্বে ইশিবা অল্প ব্যবধানে তাকাইচিকে পরাজিত করেছিলেন। যদি ইশিবা সত্যিই পদত্যাগ করেন, তবে প্রধানমন্ত্রীর শেষ কাজ হবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গত সপ্তাহে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করা। ওই চুক্তির অধীনে জাপান ৫৫০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, বিনিময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাপানের গুরুত্বপূর্ণ গাড়ি শিল্পে শুল্ক কমানোর প্রতিশ্রুতি দেন।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ