মঙ্গলবার, এপ্রিল ২১, ২০২৬

যশোরে বিস্ফোরক অভিযোগ: ভাঙ্গা থানার ওসি সহ ৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

চাঁদাবাজি, মারপিট ও লুটপাটের অভিযোগে ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও বিভিন্ন থানায় কর্মরত চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যশোরের আদালতে মামলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) চৌগাছা উপজেলার মাকাপুর গ্রামের মৃত হায়দার আলীর মেয়ে তামান্না নাজনীন লাভলী বাদি হয়ে এ মামলা করেন।

মামলার আসামিরা হলেন, ফরিদপুর ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন (এর আগে যশোরের চৌগাছা থানায় কর্মরত ছিলেন), ঝিকরগাছা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসান মারুফ (এর আগে চৌগাছা থানায় কর্মরত ছিলেন), চৌগাছা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হোসেন পাটোয়ারী ও সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আব্দুর রহমান শান্ত।

জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রিয়াজ অভিযোগটি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) পদমর্যাদার কর্মকর্তার মাধ্যমে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপারকে (এসপি)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদির আইনজীবী তাহমিদ আকাশ।

মামলার অভিযোগে জানা গেছে, যশোরের চৌগাছার মাকাপুর গ্রামের হায়দার আলী তার ওয়ারিশদের মধ্যে প্রায় ৪০ বিঘা সম্পত্তি ন্যায্যতার ভিত্তিতে বণ্টন করেন। এ জমির মধ্যে তামান্না নাজনীন লাভলীর কিছু জমি জোরপূর্বক দখল করে নেন তার মেজ ভাই ব্যারিস্টার একেএম মোর্তজা। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। মোর্তজা তখন থানার ওসি আনোয়ার হোসেনকে ম্যানেজ করে লাভলী ও তার অপর ভাইবোন এবং আত্মীয়-স্বজনদের নামে মামলা করার পরিকল্পনা করেন।

২০২৫ সালের ২৯ এপ্রিল ওসি আনোয়ার হোসেন ও এসআই মারুফ থানায় দেখা করতে বলেন লাভলীকে। এদিন সন্ধ্যায় লাভলী তার স্বজনদের নিয়ে থানায় দেখা করতে গেলে ওসি আনোয়ার হোসেন তাকে তার কক্ষে নিয়ে লাভলী ও তার স্বজনদের মামলা দিয়ে জেল খাটানোর ভয় দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। লাভলী ভয়ে ওসি আনোয়ার হোসেনের প্রস্তাবে রাজি হন। রাতে ওসি তার দুই সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে মাকাপুর মুকুট ঢালির পার্কের সামনে এসে লাভলীর কাছ থেকে চাঁদার ২ লাখ টাকা নিয়ে বাকি টাকা এক সপ্তাহের মধ্যে দিতে বলেন।

চাঁদার টাকা না দেওয়ায় আসামিরা ৬ মে ওই পার্কের সামনে এসে লাভলীকে খুঁজতে থাকেন। এ সময় লাভলীর ভাগ্নে সিয়ামকে পেয়ে তাকে ধরে ব্যাপক মারপিট করেন আসামিরা। এদিন সন্ধ্যায় আসামিরা লাভলী ও তার স্বজনদের বাড়িতে হামলা করে ব্যাপক ভাঙচুর চালান এবং ৪০ বস্তা সিদ্ধ ধান লুট করে নিয়ে যান। বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে তাদের ধরে নিয়ে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেন আসামিরা। এ ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ না করে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়। বর্তমানে পরিবেশ অনুকূলে আসায় তিনি আদালতে এ মামলা করেছেন।

বাদির আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাহমিদ আকাশ বলেন, “ভুক্তভোগী নারীর কাছে আসামিরা মামলার ভয় দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা দাবি করতেন। আসামিরা থানার কর্মকর্তা হওয়ায় বাদি ভয়ে তাদের কিছু টাকা দেন। আসামিদের দাবির পুরো টাকা না দেওয়াতে একপর্যায়ে ভুক্তভোগী নারীকে কখনও পুলিশ বাদি হয়ে কিংবা অন্য লোকদের দিয়ে মামলা করিয়ে হেনস্তা করতেন। যেহেতু আসামিরা থানার কর্মরত থাকায় ঐ সময়ে মামলা করার সাহস পাননি। এখন অনুকূল পরিবেশ পাওয়াতে ন্যায় বিচারের জন্য আদালতে মামলা করেছেন। বিচারক এই মামলাটি গ্রহণ করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।”

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ