
নাটোর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অধীনস্থ নাটোর সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে বিচারপ্রার্থীদের হয়রানি ও অনৈতিক অর্থ লেনদেনের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে অত্র আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোঃ জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে। আদালতের মতো একটি পবিত্র স্থানে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে সাধারণ বিচারপ্রার্থীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, নাটোর সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের ‘মোকদ্দমা নং- ১/২০২৬ এস সি সি’ (বাদী: ভোলানাথ কর্মকার, বিবাদী: সনাতন রায়)-এর গত ২৫/০৮/২০২৬ ইং তারিখে ৩০ ধারা তদবিরের জন্য দিন ধার্য ছিল। আইনি নিয়ম অনুযায়ী, স্মল কজ কোর্ট (এস সি সি) মোকদ্দমায় ‘ত্রিপুরা তদবির’-এর জন্য কোনো পৃথক তারিখ বা ডেট ধার্য করার অবকাশ বা প্রয়োজন থাকে না। আইনগত কোনো ভিত্তি না থাকা সত্ত্বেও বাদীকে কেবল বিভ্রান্ত ও চরম হয়রানি করার উদ্দেশ্যেই বেঞ্চ সহকারী মোঃ জিয়াউর রহমান এই কৌশল অবলম্বন করেন।
অভিযোগ উঠেছে, উক্ত তারিখে মামলার বাদী ভোলানাথ কর্মকারকে কোনো রকম সুযোগ না দিয়ে এবং পরবর্তী তারিখ (ডেট) না জানিয়ে বেঞ্চ সহকারী জিয়াউর রহমান কৌশলে মামলার নথি অন্যত্র সরিয়ে রেখে নানাভাবে হয়রানি করেন। নিরুপায় হয়ে বাদী তাঁর নিযুক্ত আইনজীবীকে বিষয়টি অবহিত করলে, সংশ্লিষ্ট আইনজীবী উক্ত বেঞ্চ সহকারীকে মৌখিকভাবে সতর্ক করেন।
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের মতে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগেও উক্ত বেঞ্চ সহকারী জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলার বাদী ও বিবাদীদের কাছ থেকে সরাসরি অনৈতিক অর্থ লেনদেনের বহু অভিযোগ উঠেছে। সূত্রের খবর, তিনি প্রায়শই প্রভাব বিস্তার করে বলেন যে তাঁর মামা অপর এক আদালতে ‘জেলা ও দায়রা জজ’ হিসেবে কর্মরত আছেন—আর এই পারিবারিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতার দাপট দেখিয়েই তিনি প্রতিনিয়ত আদালত প্রাঙ্গণে অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন।
একজন সাধারণ বেঞ্চ সহকারী হিসেবে চাকরি করার পরও স্বল্প সময়ে জিয়াউর রহমান বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক হওয়ায় স্থানীয় বিচারপ্রার্থী ও সচেতন মহলের মনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন—একজন সরকারি কর্মচারী পদে কর্মরত থেকে তিনি কীভাবে এত জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করলেন?
এই অবস্থায়, বিচারালয়ের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি লাঘবে উক্ত বেঞ্চ সহকারী জিয়াউর রহমানের অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। অত্র আদালতের বিচারক, নাটোর জেলা ও দায়রা জজসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ এবং একই সঙ্গে তাঁর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের সঠিক হিসাব তলব ও তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর প্রতি জোর আহ্বান জানাচ্ছেন সাধারণ বিচারপ্রার্থীরা।

