
ঢাকা ওয়াসার প্রকৌশলী ফকরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, বেনামে জমি ক্রয়, স্ত্রীর নামে ব্যবসা পরিচালনা এবং অপ্রদর্শিত অর্থ লেনদেনের অভিযোগ এনে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে তার ও পরিবারের সদস্যদের সম্পদের উৎস, ব্যাংক হিসাব, আয়কর নথি এবং সম্ভাব্য বিদেশি আর্থিক লেনদেন তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন সরকারি চাকরিতে কর্মরত থাকার সময় ফকরুল ইসলাম বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন, যা তার ঘোষিত আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না তা তদন্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগকারীদের দাবি, নিজের নামে সম্পদ না রেখে তিনি স্ত্রী, আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠজনদের নামে বিভিন্ন স্থানে জমি, বহুতল ভবন এবং ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, তার স্ত্রী নাদিরা ইয়াসমিন মুক্তার নামে পরিচালিত “আম্বিতা ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড” নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন রিয়েল এস্টেট কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি ফ্ল্যাট, প্লট ও জমি কেনাবেচার সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং এর মাধ্যমে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগ ও সম্পদ সাদা করার কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকতে পারে।
অভিযোগে নাদিরা ইয়াসমিন মুক্তা ও শাহ আলী বখতিয়ারের নামে একাধিক জমির দলিলের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজধানীর মোহাম্মদপুর, ঢাকা উদ্যান, নবীনগর হাউজিং ও লালমাটিয়া এলাকায় ফ্ল্যাট ও রিয়েল এস্টেট ব্যবসার সঙ্গে ফকরুল ইসলামের সম্পৃক্ততার অভিযোগও আনা হয়েছে।
এছাড়া ফ্ল্যাট বিক্রির ক্ষেত্রে প্রকৃত মূল্যের তুলনায় কম অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রদর্শন করে বাকি অর্থ নগদে গ্রহণের মাধ্যমে কর ফাঁকি এবং কালো টাকা সাদা করার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে।
অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেছেন, এসব অর্থের একটি অংশ বিদেশে পাচার হয়ে থাকতে পারে। এ কারণে ফকরুল ইসলামের বিদেশ ভ্রমণ, আর্থিক লেনদেন এবং সম্ভাব্য বিদেশি বিনিয়োগের বিষয়েও তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফকরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “আমার নিজের নামে কোনো সম্পদ নেই। আমার স্ত্রী একটি সচ্ছল পরিবারের সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসাগুলো পারিবারিক যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে।”
এদিকে অভিযোগকারীরা ফকরুল ইসলাম ও তার পরিবারের আয়কর নথি, ব্যাংক হিসাব, সম্পদের উৎস এবং সম্ভাব্য অর্থ পাচার-সংক্রান্ত তথ্য নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে দুদকের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।

