
যশোরে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উপকারভোগী তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দরিদ্র ও স্বল্প আয়ের পরিবারের নারীদের পরিবর্তে তুলনামূলকভাবে সচ্ছল ৬২ পরিবারের নারী সদস্যের নাম তালিকাভুক্ত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে যশোর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক হারুন অর রশীদসহ তিন কর্মকর্তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে।
অন্য দুই কর্মকর্তা হলেন সহকারী পরিচালক সাইফুল ইসলাম ও ইতি দত্ত সেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ড পাইলট প্রকল্পের আওতায় যশোর সদর উপজেলার চাচড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ২ হাজার ৪২ জন নারীকে উপকারভোগী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। গত ১৬ মে কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়।
ভাতুড়িয়া স্কুল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ের উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। উদ্বোধনের পর তালিকাভুক্ত ১ হাজার ৯৮০ জন উপকারভোগী নারীকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। তবে যাচাই-বাছাইয়ে ৬২ জনকে অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করায় তাদের অর্থ প্রদান স্থগিত রাখা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, তালিকা প্রণয়ন ও তদারকিতে গাফিলতি এবং অনিয়মের কারণে সচ্ছল পরিবারের সদস্যদের নাম উপকারভোগী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তালিকাভুক্ত ৬২ পরিবারের মধ্যে কয়েকজনের বহুতল ভবন ও উল্লেখযোগ্য সম্পদ রয়েছে। এমনকি একজন পাঁচতলা ভবনের মালিকের স্ত্রীও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পর সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখার উপসচিব রবিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আদেশে উপপরিচালক হারুন অর রশীদ, সহকারী পরিচালক সাইফুল ইসলাম এবং ইতি দত্ত সেনকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়।
সূত্র জানায়, উপপরিচালক হারুন অর রশীদকে জয়পুরহাটে, সহকারী পরিচালক সাইফুল ইসলামকে পাবনায় এবং ইতি দত্ত সেনকে গোপালগঞ্জে সংযুক্ত করা হয়েছে।
যশোর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আশিকুজ্জামান তুহিন বলেন, “ফ্যামিলি কার্ড পাইলট প্রকল্পের তদারকির দায়িত্ব জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের ছিল। অনিয়মের অভিযোগে চিহ্নিত ৬২ জনের কার্ড স্থগিত করা হয়েছে বলে জেনেছি।”
অভিযোগ প্রসঙ্গে উপপরিচালক হারুন অর রশীদ বলেন, “চাচড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ২ হাজার ৪২টি ফ্যামিলি কার্ডের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছিল। সমাজসেবা অধিদপ্তরের ৫৪ জন সমাজকর্মী জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তালিকায় বহুতল ভবনের মালিকের স্ত্রীর নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি জানার পর মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে ৬২টি কার্ড স্থগিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আমি সরাসরি জরিপ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ছিলাম না।”
তিনি আরও বলেন, সরকারি আদেশ অনুযায়ী তাদের তিনজনকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে।

