বুধবার, জুন ৩, ২০২৬

শার্শায় বিএনপি নেতার বি’রুদ্ধে ১০ লাখ টাকা চাঁ’দা দাবির অ’ভিযোগ, হা’মলার শিকার পুলিশ সদস্য ও স্বজন

যশোরের শার্শা উপজেলার শ্যামলাগাছি গ্রামে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এক পুলিশ সদস্য ও তার স্বজনের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আব্দুল বারিক শার্শা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। অভিযোগে স্থানীয় বিএনপি নেতা মোস্তফা কামাল মিন্টুর নাম উঠে এসেছে।

ভুক্তভোগী মামুন হাসান জুয়েল শ্যামলাগাছি গ্রামের মশিয়ার রহমানের ছেলে। তিনি বর্তমানে ঢাকায় ট্যুরিস্ট পুলিশ সদর দপ্তরে কর্মরত রয়েছেন।

জুয়েলের দাবি, তার পিতার মালিকানাধীন রাজগঞ্জ মাঠের বালুর ব্যবসা দীর্ঘ প্রায় দুই বছর ধরে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি পরিচালনা করতে বাধা দিয়ে আসছেন। সম্প্রতি তার পিতা মশিয়ার রহমান বালু বিক্রির উদ্যোগ নিলে নতুন করে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, শার্শা থানা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল মিন্টু রাজগঞ্জ এলাকার মুকুল নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে তাদের কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। তবে ওই দাবির পক্ষে কোনো প্রকার প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন জুয়েল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই অর্থ দাবিকে কেন্দ্র করেই বিরোধের সূত্রপাত এবং পরবর্তীতে পরিস্থিতি সংঘাতের দিকে গড়ায়।

জুয়েল জানান, বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গত ২৯ মে বিকেল প্রায় ৪টার দিকে তিনি বাড়ি থেকে শার্শার উদ্দেশ্যে রওনা হলে মোস্তফা কামাল মিন্টুর নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি তার পথরোধ করে।

অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় তাকে জিআই পাইপ ও বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার ফুফা আব্দুল বারিক ঘটনাস্থলে এসে প্রতিবাদ জানালে হামলাকারীরা তাকেও ধাক্কাধাক্কি ও কিল-ঘুষি মেরে সরিয়ে দেয়।

সাধারণ ডায়েরিতে শ্যামলাগাছি গ্রামের আব্দুল সালামের ছেলে সুজন (২২), সবুজ হোসেন (৩৮) এবং আব্দুল মাজেদের ছেলে লাটু (৩৩) ও পিন্টু (৩৬)-এর নাম উল্লেখ করে হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে শার্শা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলামিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ উপস্থিত হওয়ার পরও কিছু ব্যক্তি উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং মব তৈরির চেষ্টা করে।

ঘটনার পর আব্দুল বারিক শার্শা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন (জিডি নং-১৪৯৮, তারিখ: ২৯ মে ২০২৬)। তবে পুলিশ সদস্য মামুন হাসান জুয়েল এখন পর্যন্ত কোনো নিয়মিত মামলা দায়ের করেননি বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছে, ঘটনার পর থেকে তারা স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের হুমকি ও চাপের মুখে রয়েছেন। তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে শার্শা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলামিন বলেন, “ঘটনার সংবাদ পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে কিছু লোকজন উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি ও মব তৈরির চেষ্টা করেছিল। পরে তারা নিজেদের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছে।”

শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন বলেন, “শ্যামলাগাছির ঘটনায় আব্দুল বারিক একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে এ বিষয়ে অভিযোগের বক্তব্য জানতে মোস্তফা কামাল মিন্টুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ