সোমবার, মে ২৫, ২০২৬

পাসপোর্ট অধিদপ্তরের তিন পরিচালকের বিরুদ্ধে দু’র্নী’তি ও অ’বৈধ সম্পদের অ’ভিযোগ

পাসপোর্ট অধিদপ্তরের আলোচিত তিন পরিচালকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্তরা হলেন পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন, তৌফিকুল ইসলাম খান ও সাইদুল ইসলাম।

অভিযোগ রয়েছে, ঘুষ, অনিয়ম ও অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে তারা একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন।

ইতোমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি হওয়ায় আব্দুল্লাহ আল মামুন ও তৌফিকুল ইসলাম খানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে সাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় তার স্ত্রী শায়লা আক্তারকেও আসামি করা হয়েছে।

পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল নুরুল আনোয়ার বলেন, “অনিয়ম ও দুর্নীতি করে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”

অভিযোগে বলা হয়েছে, সাইদুল ইসলাম পাসপোর্ট অধিদপ্তরে কর্মরত অবস্থায় প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহণ করতেন। বিশেষ করে ময়মনসিংহ অফিসে দায়িত্ব পালনকালে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে খালি পাসপোর্ট বই ও ভুয়া অনাপত্তিপত্র ব্যবহার করে সাধারণ ফিতে জরুরি পাসপোর্ট প্রদান করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের তথ্যমতে, অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ দিয়ে তিনি নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

এসব সম্পদের মধ্যে রয়েছে নিজ এলাকা সাঁথিয়ায় ১০ বিঘা পুকুর, কাশিয়ানি বাজারে ভবনসহ জমি, ২০ বিঘার খামার, নরসিংদীতে জমির ওপর কারখানা, উত্তরা এলাকায় প্লট ও ফ্ল্যাট, বছিলা চন্দ্রিমা আবাসিক এলাকায় প্লট, শ্যাওড়াপাড়ায় জমি, মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডে ফ্ল্যাট এবং ধানমন্ডিতে একাধিক ফ্ল্যাট।

এ ছাড়া কারখানা স্থাপনের জন্য মেঘনা নদীর তীরে সাত বিঘা জমিও কিনেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের হিসাবে তার প্রায় ৩০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর গত ২০ মে তার বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়।

বর্তমানে সাইদুল ইসলাম চট্টগ্রাম বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অন্যদিকে তৌফিকুল ইসলাম খানের নামেও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিপুল সম্পদের তথ্য উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে উত্তরা এলাকায় ১ হাজার ৫০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট, ধানমন্ডিতে প্লট, গ্রিন রোডে তিনটি ফ্ল্যাট, লালমাটিয়া, ইন্দিরা রোড ও শান্তিনগরে একাধিক ফ্ল্যাট, নীলক্ষেতে দুটি দোকান এবং বিভিন্ন ব্যাংকে ৬৪ লাখ টাকার স্থায়ী আমানত।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ