শুক্রবার, মে ১৫, ২০২৬

দক্ষিণ কোরিয়ায় যেতে না পেরে ক্ষু’ব্ধ ইপিএস উত্তীর্ণরা, অটোরোস্টারের দাবিতে প্রবাসী কল্যাণ ভবনের সামনে বি’ক্ষোভ

দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মসংস্থানের আশায় ইপিএস (এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেম) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার দুই বছর পার হলেও এখনো দেশটিতে যেতে পারেননি হাজারো কর্মী। অটোরোস্টার ও পুনর্বহালের দাবিতে ১৪ মে রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ভবনের সামনে মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ক্ষুব্ধ কর্মীরা।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে ২০২২ ও ২০২৩ ব্যাচের প্রায় ১২ হাজার কর্মীর নাম রোস্টার থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এতে দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মসংস্থানের স্বপ্ন দেখা হাজারো তরুণ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।

সকাল ১০টা থেকে প্রবাসী কল্যাণ ভবনের সামনে (বোয়েসেল কার্যালয়) শুরু হওয়া কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ভুক্তভোগীরা অংশ নেন। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদ জানান।

বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, বোয়েসেলের কিছু কর্মকর্তার অনিয়ম, ঘুষ ও দুর্নীতির কারণেই তাদের নাম রোস্টার থেকে বাদ পড়েছে। দীর্ঘদিন অপেক্ষা ও একের পর এক আশ্বাস পেলেও দক্ষিণ কোরিয়ায় যাওয়ার কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় তাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে। দাবি আদায়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে গেলেও সমাধান না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা।

ভুক্তভোগী আবির বলেন, “গত ৪ এপ্রিল আমার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। দুই বছরের বেশি সময় ধরে শুধু আশ্বাসই পেয়েছি, কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ায় যাওয়ার কোনো ব্যবস্থা হয়নি।”

আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— রোস্টার থেকে বাদ পড়া ১২ হাজার কর্মীকে অবিলম্বে পুনর্বহাল ও অটোরোস্টারের আওতায় আনা, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ও বোয়েসেলের অভ্যন্তরীণ অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত করা। এছাড়া ২০২২ ও ২০২৩ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ফাইল একাধিকবার কোরিয়ান নিয়োগদাতাদের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা এবং অটোরোস্টার চালু না হওয়া পর্যন্ত নতুন সার্কুলার স্থগিত রাখার দাবিও জানান তারা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “আমরা ২০২২ ও ২০২৩ ব্যাচের রোস্টার ডিলিট হওয়া ইপিএস যোদ্ধা। আমরা দালালমুক্ত অভিবাসন ব্যবস্থা চাই। রাষ্ট্রের সরাসরি হস্তক্ষেপ ছাড়া এই সংকটের সমাধান সম্ভব নয়।”

তারা আরও বলেন, হাজারো সম্ভাবনাময় তরুণ ও রেমিট্যান্স যোদ্ধার ভবিষ্যৎ বর্তমানে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ