
সরকারি প্রতিষ্ঠানের অর্থ সুরক্ষার দায়িত্বে থেকেও নিয়ম ভেঙে ৬২ কোটি টাকার স্থায়ী আমানত ভাঙানোর অভিযোগ উঠেছে গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই একদিনে ১৪টি ব্যাংক থেকে এসব অর্থ তুলে পে-অর্ডারের মাধ্যমে নিজের জিম্মায় রাখার ঘটনা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে তীব্র আলোচনা তৈরি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গাজীপুর জেলা পরিষদের নামে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকে ৬২ কোটি টাকার বেশি স্থায়ী আমানত ছিল। এসব আমানতের মুনাফা জেলা পরিষদের বেতন-ভাতা ও দৈনন্দিন ব্যয়ে ব্যবহার করা হতো। তবে চলতি বছরের ১৬ এপ্রিল প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম একযোগে ১৪টি ব্যাংকে চিঠি দিয়ে সব আমানত ভেঙে অর্থ জেলা পরিষদের অনুকূলে পে-অর্ডার করার নির্দেশ দেন।
চিঠিগুলো পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো পে-অর্ডার ইস্যু করে অর্থ হস্তান্তর করে। পরে বিষয়টি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে আলোচনায় আসে। অভিযোগ উঠেছে, পুরো প্রক্রিয়াটি স্থানীয় সরকার বিভাগের অনুমোদন ছাড়াই সম্পন্ন করা হয়েছে, যা প্রচলিত বিধিমালার পরিপন্থী।
স্থানীয় সরকার বিভাগের ২০১২ সালের নির্দেশনায় বলা আছে, জেলা পরিষদের স্থায়ী আমানত ভাঙতে হলে মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমোদন প্রয়োজন। একই সঙ্গে নতুন ব্যাংক হিসাব খোলা বা অন্য কোনো হিসাবে অর্থ স্থানান্তরের ক্ষেত্রেও কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে।
তবে এসব নিয়ম উপেক্ষা করেই অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে ওই বিপুল অঙ্কের অর্থ পে-অর্ডার আকারে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার জিম্মায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. নজরুল ইসলাম বলেন, কিছু ব্যাংক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলে যাওয়ায় এবং মুনাফার হার কমে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে অর্থ অন্য ব্যাংকে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, প্রশাসকের জ্ঞাতসারেই এসব করা হয়েছে।
তবে গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার ড. চৌধুরী ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তিনি জানান, ঘটনাগুলো তার দায়িত্ব গ্রহণের আগের হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকেই দায় নিতে হবে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব ড. মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া কোনোভাবেই স্থায়ী আমানত ভাঙানো যায় না। নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি জানান।
এ ঘটনায় সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, দীর্ঘ সময় অর্থ পে-অর্ডার আকারে থাকলে একদিকে যেমন মুনাফা থেকে বঞ্চিত হবে জেলা পরিষদ, অন্যদিকে আর্থিক ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

