
বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার নামে সোনালী ব্যাংকে রাখা ২০ কোটি টাকার স্থায়ী আমানত (এফডিআর) হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র রহস্য ও আলোচনা। দীর্ঘদিন ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো সদুত্তর না পেয়ে শেষ পর্যন্ত জানা গেছে, প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকেই অর্থ ফেরত নেওয়া হয়েছে। তবে কেন এবং কী প্রক্রিয়ায় এই অর্থ সরানো হলো—তা নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন।
জানা গেছে, ২০২২ সালের ২১ এপ্রিল এবং ২০২৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি দুই দফায় বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার নামে ১০ কোটি টাকা করে মোট ২০ কোটি টাকার এফডিআর করা হয়। সোনালী ব্যাংকের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় শাখায় সংরক্ষিত ওই আমানত থেকে পাওয়া লভ্যাংশের ৮০ শতাংশ সংস্থার পরিচালন ব্যয়ে এবং বাকি ২০ শতাংশ মূল টাকার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কথা ছিল।
প্রতি চার মাস অন্তর প্রায় ১২ লাখ টাকা করে মহিলা ক্রীড়া সংস্থার গ্রিন রোড শাখার হিসাবে জমা হতো। এই অর্থ দিয়েই সংস্থাটি দীর্ঘদিন নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। তবে গত সেপ্টেম্বর থেকে লভ্যাংশের টাকা জমা বন্ধ হয়ে গেলে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।
বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ফিরোজা আক্তার নেলী জানান, বিষয়টি জানতে ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে তারা একাধিকবার ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দীর্ঘ সময় গড়িমসি করে এবং হিসাব বিবরণী দিতেও অস্বীকৃতি জানায়। এমনকি আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়ার পরও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
তিনি অভিযোগ করেন, একপর্যায়ে ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, “এই এফডিআর নিয়ে অফিসিয়ালি কিছু জানানো যাবে না।” পরে নির্বাচনের পর যোগাযোগ করতে বলা হয়। চলতি বছরের এপ্রিলে যোগাযোগ করলে জানানো হয়, নির্বাচনের আগেই জানুয়ারি মাসে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর ওই ২০ কোটি টাকা ফেরত নিয়ে গেছে।
এই ঘটনায় ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়া স্থায়ী আমানতের অর্থ এভাবে কোনো পূর্বঘোষণা বা ব্যাখ্যা ছাড়াই কীভাবে সরিয়ে নেওয়া হলো?
ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, শুধু মহিলা ক্রীড়া সংস্থাই নয়, অন্য অনেক ফেডারেশন বা প্রতিষ্ঠানের তহবিল থেকেও একইভাবে অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। ব্যাংক সূত্রেও এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।
মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ফিরোজা করিম নেলী বলেন, “সরকার বরাদ্দ বাতিল করতে পারে, কিন্তু পুরো বিষয়টি যেভাবে গোপন রাখা হয়েছে, তা রহস্যজনক। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের এমন লুকোচুরি আচরণ আমাদের বিস্মিত করেছে।”
দেশের ক্রীড়াঙ্গন যখন অর্থ সংকটে নানাভাবে চাপে রয়েছে, ঠিক তখন এই ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ক্রীড়া সংগঠকদের মতে, ফেডারেশন ও ক্রীড়া সংস্থাগুলোকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী না করলে দেশের খেলাধুলার ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

