
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে গুরুত্বপূর্ণ মালামাল অবৈধভাবে পাচারের মাধ্যমে শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে বলা হচ্ছে, কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেডের দুই কর্মকর্তার যোগসাজশে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।
বিশ্বস্ত একাধিক সূত্র জানায়, পসকো, টেকলিং, জেলসহ কয়েকটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহযোগিতায় গেইট পাস ব্যবস্থার অপব্যবহার করে প্রকল্প এলাকা থেকে মূল্যবান মালামাল বাইরে সরিয়ে নিচ্ছে। ফলে এ অনিয়ম কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মাতারবাড়ী প্রকল্পের সাইট অফিসের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (তড়িৎ) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম এবং ঢাকা অফিসের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) মোহাম্মদ মাহমুদ আলম এই সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা। দীর্ঘদিন একই পদে দায়িত্ব পালন করায় মাহমুদ আলমের প্রভাব ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে রকিবুল ইসলামের সঙ্গে সমন্বয় করে পাচার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, প্রকল্পে কর্মরত বিভিন্ন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের অবশিষ্ট মালামাল নিয়ম অনুযায়ী কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানী লিমিটেডের কাছে ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তা না করে উল্টো গেইট পাস ব্যবহার করে বাইরে পাচার করা হচ্ছে। এতে রাষ্ট্রায়ত্ত এ প্রতিষ্ঠান বিপুল পরিমাণ সম্পদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
সূত্র বলছে, এখনও নতুন করে দামী মালামাল সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে এবং একটি চক্র ধারাবাহিকভাবে এ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রকৌশলী মোহাম্মদ রকিবুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
একইভাবে মোহাম্মদ মাহমুদ আলমের সঙ্গে নম্বরে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। ফলে তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

