বৃহস্পতিবার, মে ১৪, ২০২৬

পার্বত্য চট্টগ্রামে বন উজাড়ের অ’ভিযোগ, আলোচনায় রেঞ্জ কর্মকর্তা কাইয়ুম নিয়াজী

পার্বত্য চট্টগ্রামের উত্তর বন বিভাগের একাধিক রেঞ্জে বন উজাড়, ঘুষ বাণিজ্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম নিয়াজীর বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, বাঘাইহাট, মাছালং, লক্ষ্মীছড়ি পূর্ব ও পশ্চিম রেঞ্জের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই মূল্যবান ও সংরক্ষিত গাছ কেটে পাচারের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। তার বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা দুর্নীতির সিন্ডিকেটের কারণে বনাঞ্চল ধ্বংসের পাশাপাশি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি বনের শত বছরের পুরোনো গাছ রাতের আঁধারে কেটে বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এসব গাছ কাটার সুযোগ দেওয়া হয়। বনজ সম্পদ পরিবহন, কাঠ ও বাঁশ কাটার অনুমতি, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন এবং অবৈধ কাঠ ব্যবসায়ীদের আইনি ঝামেলা থেকে রেহাই দেওয়ার নামেও নিয়মিত ঘুষ আদায় করা হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কেউ এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করলে কিংবা সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে নানা ধরনের ভয়ভীতি ও মামলার হুমকি দেওয়া হয়। ফলে অনেকেই ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পান না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বন উজাড় ও দুর্নীতির বিষয়ে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশ থাকায় অভিযুক্ত কর্মকর্তা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।

নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির সহযোগিতায় কাইয়ুম নিয়াজী একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। বনজ সম্পদ বিক্রি ও ঘুষের অর্থ ভাগাভাগির মাধ্যমে এই চক্র তার কর্মকাণ্ডকে আড়াল করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহল পার্বত্য চট্টগ্রামের বনভূমি রক্ষা এবং বন বিভাগের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। তারা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম নিয়াজীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। তবে বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে দুদকের পক্ষ থেকেও অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখার কথা জানানো হয়েছে।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ