
ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদে চাকরির অভিযোগ: মৌলভীবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি
মৌলভীবাজার জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ মাঈদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) কর্তৃক প্রকাশিত নিয়োগ তালিকায় তিনি মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ‘পরিদর্শক’ হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন।
অভিযোগকারীদের দাবি, মাঈদুল ইসলাম যে সনদের মাধ্যমে চাকরিতে নিয়োগ পেয়েছেন, তার কোনো দাপ্তরিক ভিত্তি নেই। মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গেজেট তালিকায় তার পিতার নাম অন্তর্ভুক্ত নেই এবং তার নামে কোনো বৈধ সরকারি স্বীকৃতিও পাওয়া যায়নি। এছাড়া সনদ গ্রহণের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ঠিকানায় বড় ধরনের অসংগতি রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়: মাঈদুল ইসলামের পিতার নামে ইস্যুকৃত সনদটিতে (নং-১৯০৭০৪, তারিখ: ১৯/০৫/২০১৩) ঠিকানা হিসেবে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার ‘ধামশ্রেনী’ উল্লেখ করা হয়েছে।
বিপরীতে, তার শ্বশুরবাড়ির বর্তমান ঠিকানা কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার ‘কাশিয়াগাড়ী’ গ্রাম। সংশ্লিষ্টদের দাবি, জাতীয় পরিচয়পত্র ও অন্যান্য দলিলাদি গভীরভাবে যাচাই করলে ঠিকানার এই অসংগতি ও সনদের প্রকৃত অবস্থা পরিষ্কার হবে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে তাকে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে উপযুক্ত প্রমাণপত্র প্রদর্শনের জন্য বলা হলেও তিনি তা উপস্থাপনে ব্যর্থ হন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মোঃ মাঈদুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। শুরুতে তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানালেও পরবর্তীতে এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ জানান তিনি।
সরকারি গুরুত্বপূর্ণ একটি সংস্থায় ভুয়া সনদে নিয়োগ পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়েছে।

