বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৬, ২০২৬

বিএনপি কর্মী মকবুল হত্যা মামলা: লে. জে. (অব.) মামুন খালেদ ১দিন ও লে. কর্ণেল (চাকরিচ্যুত) আফজাল নাছের ২ দিনের রিমান্ডে

বিএনপির কর্মী মকবুল হত্যার অভিযোগে রাজধানীর পল্টন মডেল থানার মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ ও সাবেক পরিচালক লে. কর্ণেল (চাকুরিচ্যুত) মো. আফজাল নাছেরকে ফের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

আজ রোববার (১২ এপ্রিল) মামুন খালেদকে ১ দিন ও মো. আফজাল নাছেরকে ২ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাত উল্লাহ।

মামুন খালেদ গ্রেপ্তার হওয়ার পর টানা পঞ্চম দফায় রিমান্ডে নেওয়া হলো তাকে। অন্যদিকে আফজাল নাছের গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাকে টানা চতুর্থবার রিমান্ডে নেওয়া হল।

একই মামলায় মামুন খালেদকে ৩ দিনের রিমান্ডে শেষে ও আফজাল নাছেরকে ৪ দিনের রিমান্ডে শেষে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের মতিঝিল জোনাল টিমের এসআই তোফাজ্জল হোসেন মামুন খালেদকে ফের ১ দিন ও আফজাল নাছেরকে ফের ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন।

দুইজনকেই আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত মামুন খালেদের ১ দিন ও আফজাল নাছেরের ২ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ঢাকা মহানগর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী দুইজনের রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এই মামলায় গত ৯ এপ্রিল মামুন খালেদকে ৩ দিনের ও গত ৮ এপ্রিল আফজাল নাছেরকে ৪ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

মকবুল হত্যা মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর এক দফা দাবি আদায়ের কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। ওই বছরের ৭ ডিসেম্বর ডিবি পুলিশের হারুন অর রশীদ, মেহেদী হাসান ও বিপ্লব কুমার বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে অভিযান চালান। কার্যালয়ে ভাঙচুর চালান তারা। কার্যালয়ের পাশে থাকা হাজার হাজার নেতাকর্মীর ওপর হামলা চালান। এতে মকবুল হোসেন নামে এক কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।

এ ঘটনায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর মাহফুজুর রহমান বাদী হয়ে শেখ হাসিনাসহ ২৫৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মকবুল হত্যা মামলার রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা স্ব পদে দায়িত্বে থেকে স্ব-প্রণোদিত হয়ে রাজনৈতিকভাবে বিরোধী পক্ষকে বিগত সরকারকে নানাভাবে সহযোগীতা করেছেন এবং অত্র মামলার ঘটনা সংঘটনে নেপথ্যে থেকে রাজনৈতিকভাবে বিরোধী পক্ষকে দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন মর্মে বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। এটি একটি রাজনৈতিক হত্যা মামলা। মামলাটি গোয়েন্দা-মতিঝিল বিভাগ, ডিএমপি, ঢাকার নিকট তদন্তাধীন রয়েছে। তাঁরা এই মামলার ঘটনার সাথে জড়িত ছিলেন মর্মে বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। হত্যাকান্ডের মূল রহস্য উদঘাটন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত এজাহার নামীয় ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্ত করা, মকবুলকে হত্যার সময় জড়িত আসামিদের কার কী কী ভূমিকা ছিল, হত্যাকাণ্ডে প্রকৃতপক্ষে কে কে জড়িত ছিল সেসব বিষয়ে জানার জন্য তাদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

এর আগে গত ২৫ মার্চ রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম রাজধানীর মিরপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মামুন খালেদকে গ্রেপ্তার করে। মিরপুর থানায় দায়ের করা দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় পরদিন তার ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। গত ৩১ মার্চ আরও ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। দুই দফায় ১১ দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করে পুনরায় চার দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে ডিবি পুলিশ। গত ৬ এপ্রিল আদালত তার ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরপর গত ৯ এপ্রিল পল্টন থানার একটি হত্যা মামলায় ৩ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

অন্যদিকে গত ২৯ মার্চ গভীর রাতে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএসের একটি বাসা থেকে আফজাল নাছেরকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশের একটি দল। পরে মিরপুর থানার দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়। ৩০ মার্চ তাকে দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় ৬ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। এরপর গত ৫ এপ্রিল তাকে মকবুল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ৩ দিনে রিমান্ডে নেওয়া হয়। ৮ এপ্রিল একই মামলায় আবার৪ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ