
মামলার নথি প্রেরণে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া এ নোটিশ পাঠান।
আইন সচিব ও সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, একটি মামলার কার্যকর শুনানি নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট মামলার নথি নির্ধারিত সময়ে আদালতে উপস্থিত থাকার উপর। কিন্তু বাস্তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে শুনানির দিন ফাইল আদালতে পৌঁছায় না, মামলার নথি অনুপস্থিত থাকায় মাননীয় বিচারপতিগণ শুনানি নিতে পারেন না। ফলে মামলাগুলো বারবার মুলতবি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি বিচারপ্রক্রিয়ার স্বাভাবিক গতিকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।
নোটিশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট (হাইকোর্ট বিভাগ) রুলস, ১৯৭৩ Chapter-IVA, Rule-08 অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ অফিসারকে প্রতিদিন বিকাল ৩টার মধ্যে রিকুইজিশনে স্বাক্ষর করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট শাখা/সেকশনকে পরদিন সকাল ৯:৩০টার মধ্যে মামলার নথি সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে পাঠাতে হবে। সুপ্রিম কোর্ট রুলস, ১৯৬৬ Rule-06 আদালতের অনুমতি ছাড়া কোনো নথি আদালতের হেফাজত থেকে বাইরে নেওয়া যাবে না।এছাড়া, রেজিস্ট্রার জেনারেলের দপ্তর থেকে একাধিক সার্কুলার ও অফিস আদেশ ইতিপূর্বে জারি করা হয়েছে, যেখানে এসব নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।.তবুও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা অমান্য করা হচ্ছে। ফাইল প্রেরণে অযৌক্তিক বিলম্ব করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ফাইল “গায়েব” বা “খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না” বলা হয়। ব্যক্তিগত যোগাযোগ বা তদবির ছাড়া ফাইল এগোয় না। এতে একটি অস্বচ্ছ ও অনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। যা সরাসরি বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
নোটিশে বলা হয়, ফাইল সময়মতো আদালতে না পৌঁছানো মামলার জট বৃদ্ধির একটি প্রধান কারণ। একটি মামলা মাসের পর মাস কজ লিস্টে (Cause List থেকে যাচ্ছে। শুনানি শুরুই করা যাচ্ছে না। বিচারপ্রক্রিয়া অকার্যকর হয়ে পড়ছে। এই অনিয়মের ফলে আদালতের প্রশাসনিক দক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে, বিচারব্যবস্থার উপর জনগণের আস্থা কমছে এবং আইনের শাসন (Rule of Law) ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়- বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩২ অনুযায়ী জীবনের অধিকার মানে শুধু বেঁচে থাকা নয়, বরং ন্যায়বিচার পাওয়ার নিশ্চয়তাও এর অন্তর্ভুক্ত এবং অনুচ্ছেদ ৩৫(৩) অনুযায়ী প্রত্যেক ব্যক্তির দ্রুত ও উন্মুক্ত বিচারের অধিকার রয়েছে। ফাইল না থাকায় শুনানি না হওয়া এই মৌলিক অধিকারকে সরাসরি ব্যাহত করছে। এর আগে ২৪ নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে একই বিষয়ে রেজিস্ট্রার জেনারেল বরাবর লিখিত আবেদন করা হয়। কিন্তু কোনো দৃশ্যমান বা কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এতে বোঝা যায়, সমস্যাটি সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ অবগত থাকলেও যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
নোটিশে সকল সার্কুলার ও অফিস আদেশ কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, দায়িত্বে অবহেলাকারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা, ফাইল ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, ঘুষ ও অনিয়ম বন্ধে কার্যকর নজরদারি।
নোটিশে ৭ (সাত) দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলে আইনজীবী জানান।
@dhakapost

