বুধবার, জুলাই ৮, ২০২৬

লে. কর্নেল (চাকরিচ্যুত) আফজাল নাছের আরেক হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার, ৩ দিনের রিমান্ডে

প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক পরিচালক ও লে. কর্ণেল (চাকুরিচ্যুত) মো. আফজাল নাছেরকে আরেকটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তার দেখানোর পর ৩ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ রোববার ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাত উল্লাহ এই নির্দেশ দেন।

জুলাই আন্দোলনে রাজধানীর মিরপুর থানার দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় আফজাল নাছেরকে ৬ দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হয়। মিরপুর থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির এসআই কফিল উদ্দিন তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আদালত ওই মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে ডিবির এসআই তোফাজ্জল হোসেন রাজধানীর পল্টন থানার বিএনপি কর্মী মকবুল হোসেন হত্যা মামলায় আফজাল নাছেরকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। পাশাপাশি ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন।
এ সময় আফজাল নাছেরকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত গ্রেপ্তার দেখান। পরে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি ওমর ফারুক ফারুকী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মকবুল হত্যা মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর এক দফা দাবি আদায়ের কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। ওই বছরের ৭ ডিসেম্বর ডিবি পুলিশের হারুন অর রশীদ, মেহেদী হাসান ও বিপ্লব কুমার বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে অভিযান চালান। কার্যালয়ে ভাঙচুর চালান তারা। কার্যালয়ের পাশে থাকা হাজার হাজার নেতাকর্মীর ওপর হামলা চালান। এতে মকবুল হোসেন নামে এক কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।

এ ঘটনায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর মাহফুজুর রহমান বাদী হয়ে শেখ হাসিনাসহ ২৫৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
গত ২৯ মার্চ গভীর রাতে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএসের একটি বাসা থেকে আফজাল নাছেরকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশের একটি দল। পরে মিরপুর থানার দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়। ৩০ মার্চ তাকে দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় ৬ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

দেলোয়ার হত্যা মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে অংশ নেওয়ার সময় দেলোয়ার হোসেনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। অভিযোগ করা হয়েছে, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ও অজ্ঞাতসন্ত্রাসীরা আন্দোলনকারীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

ঘটনাস্থলে গুরুতর আহত দেলোয়ার হোসেনকে প্রথমে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে এবং পরে শ্যামলীর সিটি কেয়ার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন তিনি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ