
এসিএম নিউজ, ঢাকা
করোনা মহামারীর সময়ে টিকা আমদানির নামে অন্তত ২২ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। আর এই অভিযোগে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, দুর্নীতির মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে বিভিন্ন তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছে দুদক। চিঠির উত্তর পেলে অভিযোগসমূহ খতিয়ে দেখা হবে।
যে অভিযোগ রয়েছে এতে বলা হয়েছে , করোনা মহামারির সময়ে দেশীয়ভাবে টিকা উৎপাদনের সম্ভাবনা থাকলেও সেটিকে পরিকল্পিতভাবে থামিয়ে দিয়ে আমদানিনির্ভর একটি প্রক্রিয়া চালু করা হয় । এর মাধ্যমে একটি শক্তিশালী চক্র হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় ।
অভিযোগের তালিকায় উঠে এসেছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান , সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক , বেক্সিমকো গ্রুপসহ তৎকালীন সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী – উপদেষ্টার নাম ।
দুদকে জমা পড়া অভিযোগে বলা হয় , করোনা সংক্রমণের আতঙ্কে যখন সারা দেশ দিশেহারা , তখন দেশীয় প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেক ‘ বঙ্গভ্যাক্স ‘ নামে করোনা – প্রতিরোধী একটি টিকা উদ্ভাবনের ঘোষণা দেয় । বিষয়টি সে সময় দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয় এবং দেশীয় টিকা নিয়ে আশার সঞ্চার হয় । কিন্তু সেই আশার আলো শেষ পর্যন্ত আর বাস্তবে রূপ নেয়নি । অভিযোগ অনুযায়ী , বঙ্গভ্যাক্সের অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু হলে গ্লোব বায়োটেককে বেক্সিমকোর সঙ্গে যৌথ শেয়ারে যেতে চাপ দেওয়া হয় । এ প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় দেশীয় এ উদ্যোগকে নানা অজুহাতে আটকে দেওয়া হয় ।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে , তৎকালীন প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট দেশীয় টিকা উৎপাদনের পথ রুদ্ধ করে বিদেশ থেকে টিকা আমদানির পথকে অগ্রাধিকার দেয় । এর ফলে গ্লোব বায়োটেকের প্রায় ৪০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে । অন্যদিকে টিকা আমদানি , সরবরাহ ও সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের নামে একটি চক্ৰ অন্তত ২২ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে ।
রাষ্ট্রের অতীবও গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়ে ইতিমধ্যে বিভিন্ন দপ্তর , ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নথি , সিদ্ধান্তপত্র , আমদানি – সংক্রান্ত তথ্য ও আর্থিক বিবরণী চাওয়া হয়েছে ।
দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেছেন , প্রাথমিক তথ্য যাচাই শেষে প্রয়োজন হলে জিজ্ঞাসাবাদ , নথি জব্দ এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে ।

