সোমবার, মে ৪, ২০২৬

রাজধানীর ভাটারায় স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

এসিএম নিউজ, ঢাকা

১৩ বছর আগে রাজধানীর ভাটারায় ‎স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার দায়ে স্বামীকে মৃত্যুদন্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। আজ বুধবার ঢাকার দশম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক শহিদুল ইসলাম এই রায় দেন।
রায়ে কারাদণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন জীবন হোসেন ওরফে মুকুল। আদালত রায়ে বলেছেন, মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তার দণ্ড কার্যকর করতে হবে। তবে এক্ষেত্রে দণ্ড কার্যকর করার আগে হাইকোর্টের অনুমোদন নিতে হবে।
আসামি পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন।
‎মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১২ সালের বিয়ে করেন মুকুল ও মোছা. ফাহিমা বেগম। তাদের ৬ মাসের একটা ছেলে সন্তান ছিল। মুকুল চট্টগ্রামে একটি ফার্ণিচারের দোকানে কাজ করতেন। মামলার ঘটনার কয়েক দিন আগে তারা ঢাকার ভাটারা এলাকায় আসেন।
২০১৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে তারা ঘুমোতে যান। পরের দিন সকাল ৭টার দিকে মুকুল ও ফাহিমার ছেলের কান্নার শব্দ শুনতে পান প্রতিবেশীরা। তারা গিয়ে দেখেন ফাহিমার পা বাঁধা অবস্থায় রয়েছে।
পরদিন ফাহিমার বড় ভাই সিরাজুল ইসলাম ভাটারা থানায় হত্যা মামলা করেন।
পরে তদন্তকালে জানা যায় ফাহিমের স্বামী মুকুল পরকীয়ায় আসক্ত ছিলেন। ফাহিমাকে প্রায়ই অত্যাচার নির্যাতন করতেন। ঘটনার রাতে ফাহিমাকে ওড়না দিয়ে পা বেঁধে শ্বাসরোধ করে পরদিন কান্নাকাটি করে নাটক সাজান যে অন্য কেউ হত্যা করেছে।
মামলাটি তদন্ত করে ২০১৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর মুকুলকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার এসআই শহিদুল ইসলাম। ২০১৫ সালের ১ জুন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত।
মামলার বিচার চলাকালে আদালত ১৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ