মঙ্গলবার, জুন ৩০, ২০২৬

৬০ টাকার উমেদার থেকে বিপুল সম্পদের মালিকানার অ’ভিযোগ—তেজগাঁও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ‘জসিম–রাজিব সিন্ডিকেটের’ প্রভাব বিস্তার

তেজগাঁও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের পল্লবী জোন দীর্ঘদিন ধরে দালালি, ঘুষ ও জালিয়াতির নানা অভিযোগে আলোচিত। দলিল লিখন, নামজারি, প্রত্যয়ন কিংবা জমির হস্তান্তর—প্রায় প্রতিটি ধাপেই দালালচক্রের অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে কথিত ‘উমেদার সিন্ডিকেট’, যার নেতৃত্বে আছেন দু’জন আলোচিত ব্যক্তি—জসিম ও রাজিব। সরকারি পদমর্যাদায় নিচু অবস্থানে থাকলেও প্রভাব, অর্থসম্পদ ও জনবল নিয়ন্ত্রণের কারণে তারা স্থানীয় সাব-রেজিস্ট্রারদেরও ছাপিয়ে গেছেন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

গার্মেন্টস শ্রমিক থেকে প্রভাবশালী উমেদার—জসিমের উত্থান

স্থানীয়দের দাবি, জীবনের শুরুর দিকে জসিম একটি গার্মেন্টসে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। আর্থিক সংকটে থাকা অবস্থায় এক আত্মীয়ের সহায়তায় তিনি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ঝাড়ুদারের চাকরি পান, যেখানে দৈনিক হাজিরা ছিল মাত্র ৬০ টাকা।

কিন্তু সময়ের সাথে জসিমের সম্পদের তালিকা ব্যাপকভাবে বেড়েছে বলে অভিযোগকারীরা জানান। তাদের দাবি অনুযায়ী জসিমের এখন রয়েছে—

  • মিরপুর শাহ আলীবাগে তিনটি ফ্ল্যাট

  • মিরপুর গার্ডেনে শাশুড়ির নামে আরও একটি উচ্চমূল্যের ফ্ল্যাট

  • সাভারের মসূরীখোলায় ১৫–২০ শতাংশ জমি

  • ময়মনসিংহের ভালুকায় গরুর খামার

  • সৌদি আরবে অংশীদারিত্ব ব্যবসা

  • দামি হাইয়েস মাইক্রোবাস ও নোয়া গাড়ি

  • শরীয়তপুরে পাকা বাড়ি ও জমি

স্থানীয়দের ধারণা, এসব সম্পদের বাজারমূল্য কয়েক দশক কোটি টাকারও বেশি হতে পারে।

এখানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—
মাত্র ৬০ টাকার হাজিরার চাকরি থেকে এত বিপুল সম্পদের উৎস কোথায়?
এ প্রশ্নের উত্তর জানতে সংশ্লিষ্ট মহলে তীব্র আলোচনা চলছে।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ