মঙ্গলবার, জুন ৩০, ২০২৬

পিরোজপুর সওজ কর্মকর্তা জাকির–সুলতানা দম্পতির বিরুদ্ধে কোটি টাকার অনিয়ম ও অবৈধ সম্পদ তদন্তের দাবি

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের এক প্রকৌশলী কর্মচারী জাকির হোসেন ও তার স্ত্রী সুলতানা বেগমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ, দুর্নীতি ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সীমিত বেতনের চাকরি থেকে তারা কয়েক কোটি টাকার মালিক হয়েছেন, কিনেছেন বিলাসবহুল গাড়ি ও একাধিক বাড়ি। সম্প্রতি একটি লিখিত অভিযোগে বলা হয়, জাকির হোসেন দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদ অর্জন করেছেন এবং তার স্ত্রীও সরকারি অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করা হয়েছে।

পিরোজপুর সওজ বিভাগের হিসাব রক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জাকির হোসেন নানান আর্থিক অনিয়মে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগকারীরা উল্লেখ করেছেন। তার স্ত্রী সুলতানা বেগম পিরোজপুর খরুলিয়া সাব-সেকশনের স্যাটেলাইট নকশাকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

জানা যায়, জাকির হোসেন বাগেরহাট জেলার বামনা উপজেলার রামনা ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিন নম্বর ওয়ার্ডের মৃত দেলোয়ার হোসেনের ছেলে জাকির শুরুতে এলজিইডিতে চাকরি নেন। পরে ব্যাংক কর্মকর্তাসহ সরকারি বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহায়তায় তিনি বিশাল পরিমাণ অর্থের মালিক হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে অতীতে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

২০১৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তৎকালীন মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সূত্রে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেন। পরে ২০১৮ সালেই তিনি বগুড়া এলজিইডি অফিস থেকে বদলি হয়ে পিরোজপুর সওজের হিসাব রক্ষকের দায়িত্ব পান।

এ পদে যোগদানের পর থেকেই জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে অনিয়মের মাত্রা আরও বাড়তে থাকে বলে অভিযোগ এসেছে। সাবেক ও বর্তমান সহকর্মীদের মতে, তার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বিভিন্ন ঠিকাদারি কাজ, বিল পাস এবং হিসাব সংশ্লিষ্ট অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করেন। এমনকি সওজের কোটি কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্পে বিল জালিয়াতি ও লেনদেনের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, জাকির হোসেনের গ্রামের বাড়িতেও তার পরিবারসহ বেশকিছু আত্মীয় স্বল্পসময়ে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হয়েছেন, যা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জাকির হোসেন।

২ আগস্ট বৈঠকে এসব অভিযোগ তদন্তের জন্য ফাইলিং করা হয়। এতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি ও বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত থাকার কারণে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অর্থ আত্মসাতের দায়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ