
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
পানির সংযোগের বিলিং ক্যাটাগরি—আবাসিক থেকে বাণিজ্যিক বা বাণিজ্যিক থেকে আবাসিক—পরিবর্তনের নামে ঢাকা ওয়াসার রাজস্ব বিভাগে ঘুষ লেনদেন ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দৈনিক আমাদের মাতৃভূমির বুধবারের (২৮ অক্টোবর) এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়ম না মেনে টাকার বিনিময়ে ক্যাটাগরি বদলে দেওয়া হচ্ছে, আর দাবি করা টাকা না দিলে আবার উচ্চ হারের বিল চাপিয়ে গ্রাহকদের জিম্মি করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় এক হাজার গ্রাহকের সংযোগ ঘিরে ওয়াসার একটি প্রভাবশালী চক্র এভাবে কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন করছে। এতে গ্রাহকেরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে বলে দাবি করেছে পত্রিকাটি।
যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ
প্রতিবেদনে এই চক্রের নেতৃত্বে ঢাকা ওয়াসার প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা (সিআরও) মো. আনোয়ার হোসেনের নাম এসেছে। সহযোগী হিসেবে রাজস্ব কর্মকর্তা সাধন চন্দ্র দাস এবং জোন-১-এর একজন কম্পিউটার অপারেটরের কথা বলা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওয়াসার এক বিলিং সহকারীর বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, মাঠপর্যায়ের রাজস্ব পরিদর্শক ও বিলিং সহকারীরা গ্রাহকদের সঙ্গে সরাসরি ‘চুক্তি’ করেন। আদায় করা টাকা পৌঁছানো হয় রাজস্ব কর্মকর্তা সাধন চন্দ্র দাসের কাছে। এরপর সিআরওর নিজস্ব আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে কম্পিউটার অপারেটরের মাধ্যমে বিলিং সিস্টেমে ক্যাটাগরি বদলানো হয় এবং দিনশেষে হিসাব সিআরওর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
এক গ্রাহকের অভিজ্ঞতা
এক ভুক্তভোগী গ্রাহক পত্রিকাটিকে জানান, দীর্ঘদিন বাণিজ্যিক শ্রেণিতে থাকা তাঁর সংযোগ আবাসিক করতে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা তাঁর কাছ থেকে এক লাখ টাকা নেন। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে আবাসিক হারে বিল এলেও আগস্টে কোনো আবেদন ছাড়াই সংযোগটি আবার বাণিজ্যিক শ্রেণিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। পরে যোগাযোগ করলে আবার ক্যাটাগরি বদলাতে তাঁর কাছে আরও ৫০ হাজার টাকা চাওয়া হয়।
আইন কী বলে
পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ আইন, ১৯৯৬ অনুযায়ী ক্যাটাগরি পরিবর্তনের জন্য নির্দিষ্ট আবেদন, সরেজমিন তদন্ত, আগের সব বকেয়া পরিশোধ এবং প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার অনুমোদন বাধ্যতামূলক। প্রতিবেদনের দাবি, বাস্তবে মাঠপর্যায়ের কোনো যাচাই ছাড়াই টাকা দিলেই রাতারাতি ক্যাটাগরি বদলে যাচ্ছে। ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা এই চক্র বন্ধে সরকার ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
অভিযুক্তদের বক্তব্য
প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন পত্রিকাটির কাছে অনিয়মের সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। রাজস্ব কর্মকর্তা সাধন চন্দ্র দাসের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে দুদক বা ওয়াসা কর্তৃপক্ষের কোনো তদন্তের কথা উল্লেখ নেই; অভিযোগগুলো প্রমাণিত নয় এবং এসিএম সেগুলো স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করতে পারেনি।
তথ্যসূত্র: দৈনিক আমাদের মাতৃভূমি, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

