বুধবার, অক্টোবর 28, 2026

ঋণ জালিয়াতির অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

ভুয়া নথিপত্রের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ থেকে ৬৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১-এ মামলাটি করেন সংস্থার উপসহকারী পরিচালক মো. রুবেল হোসেন। ১৯ অক্টোবর দুদক প্রধান কার্যালয় মামলাটির অনুমোদন দেয়। দুদকের উপপরিচালক মশিউর রহমান মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন আরামিট সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) সাবেক চেয়ারম্যান রুখমিলা জামান, আরামিট সিমেন্টের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা ও ইউসিবির সাবেক পরিচালক মো. শাহ আলম, আরামিট গ্রুপের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (হিসাব) মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং ইসলামী ব্যাংকের চট্টগ্রামের জুবিলী রোড শাখার কয়েকজন কর্মকর্তা।

অভিযোগে যা বলা হয়েছে

দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকের জুবিলী রোড শাখায় ২৭টি বাই-মুরাবাহা বিনিয়োগ চুক্তির মাধ্যমে অর্থ তুলে নেওয়া হয়। এসব চুক্তিতে ক্লিংকার, জিপসাম, চুনাপাথর, স্ল্যাগসহ বিভিন্ন কাঁচামাল সরবরাহের ভুয়া চালান ও কাগজপত্র দেখানো হয়, যদিও বাস্তবে কোনো পণ্য সরবরাহ হয়নি বলে অভিযোগ।

কাঁচামাল সরবরাহকারী হিসেবে দেখানো ‘ক্লাসিক ট্রেডিং’-এর মালিক হিসেবে মো. জাহাঙ্গীর আলমের নাম রয়েছে বলে জানা গেছে। তদন্তকারীরা প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানায় কোনো অফিস, গুদাম বা আমদানি-রপ্তানির কার্যক্রমের অস্তিত্ব পাননি। অভিযোগ রয়েছে, ব্যাংক কর্মকর্তারা নথিপত্র যথাযথভাবে যাচাই না করেই চুক্তিগুলো অনুমোদন করেন এবং অর্থ ক্লাসিক ট্রেডিংসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের হিসাব ঘুরে আরামিট সিমেন্ট ও সংশ্লিষ্ট হিসাবে পৌঁছায়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৭ সালে আরামিট সিমেন্ট ৩৫০ কোটি টাকার চলতি মূলধন ঋণের অনুমোদন পায়। এর আওতায় ৫৪টি বাই-মুরাবাহা চুক্তির মাধ্যমে ২০৫ কোটি ৭ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়, যার ২৭টি চুক্তি এই মামলার অন্তর্ভুক্ত। তদন্তে আরও কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিললে তাঁদেরও আইনের আওতায় আনা হবে বলে দুদক জানিয়েছে।

অভিযুক্তদের বক্তব্য

প্রতিবেদনে অভিযুক্ত ব্যক্তি, আরামিট সিমেন্ট বা ইসলামী ব্যাংকের কোনো বক্তব্য উল্লেখ করা হয়নি। মামলা দায়েরের অর্থ অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়; আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।

তথ্যসূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (টিবিএস নিউজ), ২৭ অক্টোবর ২০২৬; দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ